এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন জুলাই বিপ্লবী ফাইয়াজ


২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যত্থানে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার, সাত দিনের রিমান্ড এবং দুই হাত দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় আদালতে নেওয়ার ঘটনায় আলোচনায় আসা কিশোর হাসনাতুল ইসলাম ফাইয়াজ এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেছেন। বাংলা ছাড়া বাকি সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফাইয়াজের বড় ভাই ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম। ফাইয়াজ ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী ছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন ফাইয়াজ। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। ১৭ জুলাই থেকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ফাইয়াজ বন্ধুদের সঙ্গে সামনের সারির আন্দোলনকারীদের পানি ও খাবার সরবরাহ করতেন। পাশাপাশি স্লোগান দিয়ে আন্দোলনকারীদের উৎসাহিত করতেন।
আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ২৪ জুলাই রাতে রাজধানীর মাতুয়াইলের বাসা থেকে সাদাপোশাকধারী ব্যক্তিরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। কয়েক দিন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে ২৭ জুলাই পুলিশ সদস্য গিয়াস উদ্দিন হত্যা মামলায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালত থেকে বের করার সময় দুই হাত দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় তাকে প্রিজনভ্যানে নেওয়ার ছবি ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পরদিন ফাইয়াজের জন্মনিবন্ধন ও এসএসসি সনদ আদালতে উপস্থাপন করে তাঁর আইনজীবীরা জানান, তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক। পরে শিশু আদালত রিমান্ডের আদেশ বাতিল করে তাঁকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ২৯ জুলাই হাইকোর্টে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষও তাকে রিমান্ডে নেওয়া ও দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার ঘটনাকে ভুল বলে স্বীকার করে।
জুলাইয়ের সেই আলোচিত ঘটনার পর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে আবারও পড়াশোনায় মনোযোগী হন ফাইয়াজ। এবার এইচএসসির ফলাফলে তার কৃতিত্বপূর্ণ অর্জন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।



