মুন্সিগঞ্জ

শ্রীনগরে নির্মিত সেতুর সুফল মিলছে না

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: শ্রীনগর উপজেলার আটপাড়া ইউনিয়নের দেউপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি নির্মিত সেতুর দুই দিকে উঁচু রাস্তার অভাবে ওই সেতুর সুফল মিলছে না। এতে যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী। আটপাড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দেউপাড়া গিয়ে বেহাল রাস্তা ও সেতুর সচিত্র লক্ষ্য করা যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, দক্ষিণ-উত্তরমুখী অবস্থিত উঁচু সেতুটির একদিকে প্রায় ১০ নিচে ইট সলিং রাস্তা ও অপরদিকে সরু কাঁচা রয়েছে। সেতুর দুই পাশের সংযোগ রাস্তার অবস্থাও খুবই নাজুক।

উঠা নামার জন্য সেতুর দুই পাশে মাটির সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে। এঅবস্থায় পথচারীদের পক্ষে সেতুতে উঠা নামা করা অনেকটাই ঝুকিপূর্ণ। বৃষ্টির দিনে মাটির পিচ্ছিল সিঁড়ি বেয়ে উঠা নামা করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বিকল্প পথ না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই এলাকাকাসীর সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুলের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী ও বয়স্ক মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

অন্যদিকে বেহাল নিচু রাস্তা ও উঁচু সেতুর কারণে দেউপাড়া-নন্দীপাড়া কবরস্থানে লাশ দাফন করতে আসা স্বজনদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে বলছেন স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৬-২০১৭ অর্থবছর ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য সেতুটির নির্মাণ কাজে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। অথচ সংযোগ রাস্তা না থাকার ফলে নির্মিত সেতুটি জনগণের কোন কাজেই আসছে না। তৎকালীন সময়ে স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের সঠিক তদারকির অভাবেই ৭/৮ বছর অতিবাহিত হলেও নির্মিত সেতুর সুফল ভোগ করতে পারছেন না বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) যোগাযোগের জন্য চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ না করায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

আটপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান এব্যাপারে জানান, যখন সেতুটি নির্মাণ করা হয় তখন তুলনামূলকভাবে রাস্তা থেকে অনেকই উঁচু করা হয়। মনে হচ্ছে সেতু নির্মাণকালীন সময় সংশ্লিষ্টজনদের পরিকল্পনায় কিছুটা ভুল ছিল। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর একাধিকবার চেষ্টা করেছি সেতুর সংযোগ সড়ক উঁচু করার। ২ বছর আগেও ওই সেতুর সংযোগ রাস্তা উঁচু করার জন্য কাজ শুরু করা হলে স্থানীয় জমির মালিকদের সমন্বয়হীনাতার কারণে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। জনসাধাণের দুর্ভোগ লাঘবের চিন্তা করে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের বলেছি তারা যদি রাস্তায় মাটি দিতে রাজি হন তাহলে ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দে রাস্তা উঁচু করে দিবো। তার পরেও সেতুর দুই পাশের সংযোগ রাস্তা উঁচু করার বিষয়ে আলোচনা করছি।

এই বিভাগের আরও সংবাদ