ঢাকাসহ ৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বিরুদ্ধে রিট খারিজ


ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত চেয়ে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা প্রশাসক নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন স্থগিত করার আবেদনটি আর বহাল থাকল না।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।
রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতে বলা হয়, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকেরা সিটি করপোরেশনগুলোতে দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব পালনের আইনি সুযোগ রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতি কত দিন বহাল থাকবে, সেই সিদ্ধান্ত সরকারের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত বলেও আদালতে যুক্তি তুলে ধরা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, রিট আবেদনকারীদের দাবি ছিল, বিশেষ পরিস্থিতি না থাকায় প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ। তবে আদালত তাদের যুক্তি গ্রহণ করেননি এবং রিটটি অপরিপক্ব বিবেচনায় খারিজ করেছেন।
গত ৪ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম কিবরিয়াসহ ছয়জন এ রিট করেন। এতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট ছয় সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়।
এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন—ঢাকা দক্ষিণে মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তরে মো. শফিকুল ইসলাম খান, খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেটে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুরে মো. শওকত হোসেন সরকার।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ২৫ক ধারার উপধারা (১) অনুসারে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকেরা নিজ নিজ সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য বিধি অনুযায়ী তারা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা পাবেন। জনস্বার্থে জারি করা প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।



