ঈশ্বরগঞ্জে কন্যাশিশু দিবসে বাল্যবিয়ের আয়োজন, বাবাকে জরিমানা


ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: কন্যাশিশুর অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার বার্তা যখন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, ঠিক সেদিনই ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের হাটুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ের আয়োজন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা কদ্দুস মিয়াকে চার হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কনা আক্তার নামে ওই শিক্ষার্থী সোহাগী স্বপ্ন সিঁড়ি হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। তার সঙ্গে উপজেলার নয়াশিমুল গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে মিন্টু মিয়ার বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।
কনার পরিবারের দাবি, রোববার স্থানীয় বিয়ে নিবন্ধক উবায়েদ উল্লাহর মাধ্যমে দুই লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে বিয়ের কাবিন সম্পন্ন করা হয়। তবে এ বিষয়ে কাজী উবায়েদ উল্লাহর বক্তব্য ভিন্ন। তিনি জানান, বিয়ের নিবন্ধন বা কাবিন কোনোটিই সম্পন্ন হয়নি। রোববার ছেলেপক্ষ তাঁর কাছে এসেছিল। পরে তাদের জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়।
সোমবার উপজেলা পরিষদে জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের কর্মসূচি চলার সময় হাটুলিয়া গ্রামে বাল্যবিয়ের আয়োজনের খবর পায় উপজেলা প্রশাসন। পরে ইউএনও সানজিদা রহমান ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ্জহুরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন।
প্রশাসন সূত্র জানায়, বিয়ের আয়োজন করায় কনার বাবাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে বরপক্ষকে বিয়েবাড়িতে আসতে না দেওয়া এবং বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না করার জন্য তাঁকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ইউএনও সানজিদা রহমান বলেন, মেয়েটির পরিবারের দাবি ছিল, রোববার কাজির মাধ্যমে বিয়ে নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। বিষয়টি জানার পর প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ রাখতে এবং বরপক্ষকে বিয়েবাড়িতে আসতে না দিতে মেয়েটির বাবাকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



