ভোলা

মায়ের কান্না থামিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত: মুমূর্ষু শিশুকে রক্ত দিলেন ভোলার শিক্ষা কর্মকর্তা

​ইয়ামিন হোসেন, ভোলা: হাতে সময় নেই বললেই চলে, আর রক্তের অভাবে হাসপাতালের বারান্দায় দিশেহারা এক অসহায় মা। অসুস্থ সন্তানের জীবন বাঁচাতে আকুল হয়ে এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করেও যখন কোনো মেলবন্ধন পাচ্ছিলেন না, তখন দুশ্চিন্তা আর হতাশায় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ঠিক সেই মূহুর্তে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এগিয়ে এলেন শিক্ষা কর্মকর্তা ইজাজুল ইসলাম। অন্যের অপেক্ষায় না থেকে নিজেই নিজের রক্ত দিয়ে বাঁচালেন এক ছোট্ট শিশুর প্রাণ।

​সম্প্রতি ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু হাসানের শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হলে চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে রক্তের তাগিদ দেন। সন্তানের এমন সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় পরিবার ও স্বজনেরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও নির্দিষ্ট গ্রুপের রক্ত জোগাড় করতে পারছিলেন না। সময় যত গড়াচ্ছিল, শিশু হাসানের জীবন নিয়ে মা ও স্বজনদের আশঙ্কা ততটাই ঘনীভূত হচ্ছিল।

​ঘটনাটি জানতে পেরে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে ছুটে যান ভোলা সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইজাজুল ইসলাম। পরবর্তীতে রক্তের গ্রুপ মিলে গেলে বিন্দুমাত্র ইতস্তত না করে নিজেই রক্তদানের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর দেওয়া রক্ত শরীরে পৌঁছানোর পর নতুন করে শুরু হয় শিশুটির চিকিৎসা কার্যক্রম।

​জরুরি সময়ে রক্তের সংস্থান হওয়ায় এবং সন্তানের জীবন রক্ষার আলো দেখে আনন্দে কেঁদে ফেলেন শিশুটির মা। কান্নাভেজা মুখেই ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি। শিক্ষা কর্মকর্তার এমন সহমর্মিতায় গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে শিশু হাসানের পরিবার। তাদের মতে, চরম বিপদের সময়ে এভাবে পাশে এসে দাঁড়িয়ে তিনি শুধু রক্তই দেননি, বরং তাদের পুরো পরিবারকে ফিরিয়ে দিয়েছেন বাঁচার নতুন আশা।

​নিজের এই মানবিক অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা ইজাজুল ইসলাম বলেন, “অসহায় শিশু হাসানের চিকিৎসার প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতে পেরে এবং রক্ত দিতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। এটি মহান আল্লাহর অশেষ নেয়ামত যে এমন একটি মহৎ কাজে ভূমিকা রাখার সুযোগ পেয়েছি।”

​স্থানীয় বাসিন্দারা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা ইজাজুল ইসলামের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন দৃষ্টান্ত সমাজে মানবিকতার মূল্যবোধকে আরও দৃঢ় করে। এক ব্যাগ রক্ত শুধু একজন মুমূর্ষু মানুষের জীবনই রক্ষা করে না, বরং একটি ভাঙতে বসা পরিবারের মুখে ফুটিয়ে তোলে বেঁচে থাকার আনন্দ।

এই বিভাগের আরও সংবাদ