তিন মাস ধরে বিদ্যুৎহীন বাগেরহাটের কাটাখালী রেলস্টেশন, জনবল সংকটে ব্যাহত যাত্রীসেবা


সাগর মন্ডল, স্টাফ রিপোর্টার: বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাটাখালী রেলস্টেশনে জনবল সংকটের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট। মাত্র একজন টিকিট বুকিং সহকারী দিয়ে চলছে স্টেশনের কার্যক্রম। প্রায় তিন মাস আগে পল্লী বিদ্যুতের লাইনের তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি যাওয়ার পর থেকে স্টেশনটি বিদ্যুৎহীন। এতে পানি সংকট, তীব্র গরম ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় আড়াই বছর আগে কাটাখালী রেলস্টেশন চালু হলেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে একজন টিকিট বুকিং সহকারী দিয়েই স্টেশনের টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে কর্মরত একমাত্র কর্মীকেও অতিরিক্ত চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
এদিকে, প্রায় তিন মাস আগে স্টেশনের বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ব্যবহৃত পল্লী বিদ্যুতের তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে যায়। এরপর থেকেই বন্ধ রয়েছে স্টেশনের বিদ্যুৎ সরবরাহ। বিদ্যুৎ না থাকায় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎহীন স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা।
স্টেশনে ক্লিনার না থাকায় বাথরুম ও আশপাশের পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। একমাত্র টিকিট বুকিং সহকারীকে রাতে স্টেশনেই থাকতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কাটাখালী রেলস্টেশনের টিকিট বুকিং সহকারী মো. রুবেল হোসেন বলেন, আমি এখানে একাই দায়িত্ব পালন করছি। রাতে স্টেশনে থাকি। ক্লিনার না থাকায় বাথরুমের অবস্থা খুবই খারাপ। প্রায় তিন মাস আগে ট্রান্সফরমার চুরির পর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ। বিষয়টি বারবার জানানো হলেও এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।
এ বিষয়ে বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মাহাফুজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলব না।
যাত্রী ও স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্টেশনে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন, পানি সরবরাহ নিশ্চিত এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হোক। এতে যাত্রীসেবার মান বাড়ার পাশাপাশি স্টেশনটির স্বাভাবিক কার্যক্রমও নিশ্চিত হবে।



