ভোলা

ইলিশ রক্ষায় ভোলায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা: বরাদ্দের চাল প্রারম্ভেই বিতরণের দাবি

​ইয়ামিন হোসেন, ভোলা: জাতীয় মাছ ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে নদী ও সাগরে ২২ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে ভোলার ৭টি উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে পরিবারের জন্য ৩ হাজার ৫৯১ দশমিক ৪ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

​মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভোলার মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬টি জেলে পরিবার খাদ্য সহায়তা পাবে। প্রতি নিবন্ধিত জেলে পরিবার নির্ধারিত ২২ দিনের জন্য ২৫ কেজি করে চাল পাবে।

​তবে সরকারি সহায়তা সময়মতো পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভোলার ভুক্তভোগী জেলেরা। তাদের দাবি, ইলিশ ধরা বন্ধ থাকার সাথে সাথেই চাল বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। অনেক জেলে পরিবারের জীবিকার একমাত্র উপায় ইলিশ শিকার। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার প্রথম দিকে চাল না পেলে তাদের পরিবারসহ অনাহারে দিন কাটাতে হয় বা চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়। একই সাথে তালিকা তৈরিতে স্বজনপ্রীতি ও চাল বিতরণে দুর্নীতি রোধ করে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।

​ভোলার মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতা সাহাব উদ্দিন ফরাজী বলেন, “নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে জেলেদের আয়-রোজগার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। যদি প্রথম দু-এক দিনের মধ্যেই চাল হাতে পাওয়া যায়, তবে পরিবার নিয়ে কোনোমতে দিন কেটে যায়। কিন্তু অনেক সময় চাল পেতে ২২ দিন সময় পার হয়ে যায়, এতে জেলেরা চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।”

​এ বিষয়ে ভোলার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হুসাইন জানান, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই ২২ দিন নদী ও সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্য সহায়তা বিতরণের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছি। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়মতো এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সাথে জেলেদের হাতে বরাদ্দের চাল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”

এই বিভাগের আরও সংবাদ