শেরপুর

শেরপুরে ২৫ বস্তা ইউরিয়া জব্দ, জরিমানা ২৩ হাজার

আরফান আলী, শেরপুর: শেরপুরের শ্রীবরদীতে সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ইউরিয়া সার বিক্রি করে পরিবহনের সময় ২৫ বস্তা সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে সার পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়ির চালক ও ক্রেতাদের।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নের ঝগড়ারচর বাজারের উত্তর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ভেলুয়া ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী নতুন সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান।

এর মধ্যে মেসার্স সারোয়ার জাহান অনিক ট্রেডার্স থেকে ১৫ বস্তা এবং চঞ্চল এন্টারপ্রাইজ থেকে ১০ বস্তা—মোট ২৫ বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি করে তা পরিবহন করা হচ্ছিল। পরে স্থানীয়রা সারসহ ক্রেতা ও চালককে আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন।

আটক ক্রেতারা কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার জাদুরচর ইউনিয়নের সায়দাবাজ এলাকার বাসিন্দা ও কৃষক বলে জানা গেছে। তাঁদের দাবি, নিজেদের নির্ধারিত ডিলার পয়েন্টে সার কিনতে গেলে সেখানে সার নেই বলে জানানো হয়। পরে তাঁরা সার সংগ্রহের জন্য শ্রীবরদীর ঝগড়ারচর বাজারে আসেন।

তাঁরা জানান, ঝগড়ারচর বাজারে মেসার্স সারোয়ার জাহান অনিক ট্রেডার্স থেকে ১৫ বস্তা এবং চঞ্চল এন্টারপ্রাইজ থেকে ১০ বস্তা ইউরিয়া সার কেনেন। সরকারি নির্ধারিত মূল্য প্রতি বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা হলেও তাঁদের কাছে ১ হাজার ৪৫০ টাকা দরে সার বিক্রি করা হয়। পরে বটবটি গাড়িতে করে সার নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয়দের হাতে আটক হন তাঁরা।

পরে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মেসার্স সারোয়ার জাহান অনিক ট্রেডার্সকে ১৫ হাজার টাকা এবং চঞ্চল এন্টারপ্রাইজকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দ করা ২৫ বস্তা ইউরিয়া সার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব-উল-আহসান। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান আকন্দ ও শ্রীবরদী থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নতুন সার ডিলার নিয়োগকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ব্যবসায়ী মুরাদুজ্জামান ও তাঁর জামাতা সারোয়ার জাহান অনিক ভেলুয়া ইউনিয়নের নতুন সার ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদন করেছেন। ডিলারশিপ পেতে তাঁরা ৬০ লাখ টাকা খরচ করেছেন বলেও দাবি করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। তবে এ দাবির স্বতন্ত্র কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ডিলারশিপ পাওয়ার আগেই যদি সার বিক্রি ও সরবরাহ নিয়ে এমন অভিযোগ ওঠে, তাহলে ডিলারশিপ পাওয়ার পর সার বিতরণ ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও নজরদারি প্রয়োজন বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।

এই বিভাগের আরও সংবাদ