আন্তর্জাতিক

রিয়াদে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুতিদের

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও দেশটির লোহিত সাগর উপকূলের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। হামলায় হতাহতের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য দেয়নি।

শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে জ্বালানি ট্যাংক থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। এ সময় বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। হুতিদের হামলা বাড়ার পর প্রথমবারের মতো রিয়াদে বিমান হামলার সতর্কবার্তাও জারি করা হয়।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল-সারিয়া বলেন, রিয়াদের ‘সংবেদনশীল স্থাপনা’ এবং লোহিত সাগরের উপকূলে রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি আরামকোর ইয়ানবু স্থাপনা লক্ষ্য করে বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। সৌদি বাহিনীর ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হামলার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এক মুখপাত্র জানান, বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবু শহরে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো ‘শত্রুতামূলক প্রচেষ্টা’ও প্রতিহত করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল ও ভ্রমণ বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তারা অঞ্চলটিতে যাতায়াত পুনর্বিবেচনারও আহ্বান জানিয়েছে।

সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিনের সংঘাত চলছে। এদিকে এএফপির এক অনিশ্চিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবারের লড়াইয়ে উভয় পক্ষের ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে হুতিদের ৩১ জন এবং সরকারি বাহিনীর ১৭ জন বলে দাবি করা হয়েছে।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজার ৭৯৬ ছাড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে হুতিরা কৌশলগত বন্দরনগরী মোকা ও পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে। লোহিত সাগরের এই অঞ্চল দিয়ে সৌদি আরবের তেল ইউরোপ ও এশিয়ায় পরিবহন করা হয়।

সূত্র: বিবিসি

এই বিভাগের আরও সংবাদ