জাতীয়

নবম পে-স্কেলের গেজেট জারি, কার্যকর জুলাই থেকেই

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামোর (পে-স্কেল) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শীর্ষক এই নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী গ্রেডভেদে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন কাঠামো তিন ধাপে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে এবং চাকরিজীবীরা তাদের বকেয়া বেতনও পাবেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোট তিন ধাপে বর্ধিত এই মূল বেতন কার্যকর হবে। প্রথম ধাপ হিসেবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পাবেন, যা গত ৩০ জুনের আহরিত বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে ৭০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডে ৭৫ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হবে। পরবর্তীতে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে শতভাগ বর্ধিত বেতন পাবেন সরকারি কর্মচারীরা। তবে বর্ধিত ভাতার সুবিধা পেতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত। বিদ্যমান পেনশনভোগীরাও এই নতুন বেতনকাঠামোর শতভাগ সুবিধা পাবেন।

নতুন কাঠামোতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে, যেখানে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়ানো হয়েছে। প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ বা প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকায়। অন্যদিকে, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়ছে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। ফলে সর্বনিম্ন বা ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে।

দেশের প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীর জন্য এই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থ বিভাগ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার (ভেটিং) পর আজ এই প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক দশক পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করা হয়। কমিশন ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়ে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে সরকার গঠনের পর গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রধান করে ১০ সদস্যের একটি বাস্তবায়ন ও সুপারিশ পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশের ভিত্তিতে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই বিভাগের আরও সংবাদ