চট্টগ্রামের হাটহাজারী-নাজিরহাট রোডে ডিভাইডার ও সড়ক সম্প্রসারণের তাগিদ ভূমি প্রতিমন্ত্রীর


চট্টগ্রামের প্রতি ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়বদ্ধতা ও আন্তরিক অনুভূতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সুরক্ষায় বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। দেশের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে নিজের অগ্রাধিকার উল্লেখ করে চট্টগ্রাম জেলার অতি গুরুত্বপূর্ণ হাটহাজারী থেকে নাজিরহাট সড়ক দুর্ঘটনা রোধে অতি দ্রুত রোড ডিভাইডার স্থাপন এবং সড়ক সম্প্রসারণের জোর দাবি জানান তিনি।
গতকাল ঢাকা সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৫৭তম সভায় প্রতিমন্ত্রী তাঁর এ অভিমত প্রকাশ করেন। কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু, এমপি। সভায় অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের সাথে আমার আত্মিক টান ও গভীর ভালোবাসা রয়েছে। হাটহাজারী থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত অত্যন্ত ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ডিভাইডার না থাকায় সম্প্রতি দুর্ঘটনায় ২৭ জনের করুণ ও অকাল মৃত্যু ঘটেছে, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। চট্টগ্রামবাসীর এই দুঃখ-কষ্ট আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। এ ধরনের অশুভ ও মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা কোনোভাবেই ঘটতে দিতে পারি না। তাই জরুরি ভিত্তিতে হাটহাজারী-নাজিরহাট রোডে রোড ডিভাইডার স্থাপন এবং সড়কটি সম্প্রসারণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
সরকারি জমি বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল দৃঢ়তার সাথে বলেন, বিগত আমলের অস্বচ্ছতা, অনিয়ম ও চাটুকারিতার নজির আমরা এ দেশে আর হতে দেব না। ভূমি অধিগ্রহণের প্রতিটি ধাপে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে এবং জনগণ যেন কোনো প্রকার ভোগান্তি বা অসন্তোষের শিকার না হয়, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করে কোনো উন্নয়ন কাজ হতে পারে না। পরিবেশের ভারসাম্য ও কৃষি জমি সুরক্ষার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার কড়া নির্দেশনা দেন তিনি।
উক্ত সভায় কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির পূর্বানুমোদনের জন্য প্রাপ্ত চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত প্রস্তাবসমূহ অনুমোদন করা হয়।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় পাঁচলাইশ ও পশ্চিম ষোলশহর মৌজায় ১.৮৪০৬৪ একর এবং চন্দনপুরা, ইমামগঞ্জ, পাথরঘাটা, বাকলিয়া ও পূর্ব ষোলশহর মৌজায় ২.২২৮৯৮৮ একর জমি জনস্বার্থে অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগাধীন “চাতুরী (চৌমুহনী)-সিইউএফএল-কর্ণফুলী ড্রাইডক (মেরিন একাডেমি)-ফকিরনীহাট (এন ১২১) জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ” প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী থানাধীন জুলধা (১.৩৯০৩ একর), শিকলবাহা (৬.৯৭৩১ একর), শাহমীরপুর (১০.৭৫৫৯ একর) এবং আনোয়ারা থানাধীন বাদলপুরা মৌজায় (২.৫৮৯০ একর) জমি অধিগ্রহণ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
“বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্তকরণ (LOC-III)” প্রকল্পের আওতায় মিরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় সর্বমোট ৫৭.৯৩৮০ একর জমির অধিগ্রহণ প্রস্তাব মঞ্জুর করা হয়।
এছাড়া সভায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বিদ্যুৎ, রেলওয়ে ও শিল্প খাতের বেশ কিছু বড় প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ অনুমোদন লাভ করে। এর মধ্যে নেত্রকোণা ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে ১৩২ ডাবল সার্কিট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে নাজমা পেপার মিলস ও মেঘনা ইকোনমিক জোনের অনুকূলে ভূমি অধিগ্রহণ, সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে সড়ক উন্নয়ন, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্প এবং যশোরে রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (EPZ) জন্য জমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিবর্তিত বাস্তবতায় বগুড়া কোল্ড স্টোরেজ অ্যান্ড এলাইড ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ-এর অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি জনকল্যাণমূলক হাসপাতাল স্থাপনের উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অনুমোদন প্রদান করে কমিটি।



