মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে মার্কিন হামলা, নিহত ২


মাদক পাচারের অভিযোগে প্রশান্ত মহাসাগরে একটি সন্দেহভাজন নৌযানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সামরিক কমান্ডের দাবি, হামলায় নৌযানটির দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। তবে নৌযানটি সত্যিই মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল, এমন চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ করেনি ট্রাম্প প্রশাসন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) জানায়, রবিবার পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের জন্য ব্যবহৃত পরিচিত রুটে চলাচলকারী একটি নৌযানকে লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়।
সাউথকম দাবি করে, গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে নৌযানটির মাদক পাচারে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল। পোস্টে বলা হয়, মাদক পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্র কতটা প্রস্তুত, এই হামলা তার ‘স্পষ্ট ও দৃঢ়’ বার্তা। পোস্টের সঙ্গে প্রকাশ করা সাদাকালো ও অস্পষ্ট একটি ভিডিওতে পানির ওপর একটি নৌযান চলতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পরই নৌযানটির কাছে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, সাুউথকম-এর কমান্ডার জেনারেল ফ্রান্সিস এল. ডোনোভানের নির্দেশনায় জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স ওয়েস্টার্ন হেমিস্ফিয়ার ওই নৌযানে প্রাণঘাতী হামলা চালায়। ডোনোভান বলেন, মাদক-সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম ব্যাহত করা, তাদের নেতৃত্ব ধ্বংস করা এবং পুরো অঞ্চলে মাদকচক্রের সন্ত্রাস নির্মূল করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পশ্চিম গোলার্ধে মাদক পাচারকারীদের ‘বিনা শাস্তিতে’ কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’ শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, লাতিন আমেরিকার মাদক পাচারকারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত যুদ্ধে নেমেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির হিসাব অনুযায়ী, এরপর থেকে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে পরিচালিত বিভিন্ন হামলায় ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
তবে লক্ষ্যবস্তু করা নৌযানগুলো মাদক পাচারে জড়িত ছিল- এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো প্রকাশ করেনি ট্রাম্প প্রশাসন। এ কারণে আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব হামলাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য উদাহরণ হিসেবে দেখছে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (পেন্টাগন) ইন্সপেক্টর জেনারেল গত মে মাসে এসব হামলায় সামরিক বাহিনী নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নিয়ম ও প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে কি না, তা পর্যালোচনার ঘোষণা দেন। তবে ওই পর্যালোচনায় হামলার আইনি বৈধতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে না।



