জাতীয়

সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ থেকে ৮ শতাংশ অর্জন সম্ভব: সংস্কৃতিমন্ত্রী

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ,এমপি আজ (সোমবার) সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এর সাথে পর্যটন উন্নয়ন বিষয়ে মন্ত্রী পর্যায়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভার শুরুতে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নব নিযুক্ত মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি’কে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এমপি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা)-পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ডাঃ জাহেদুর রহমান, এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ২২-২৩ বছরের অন্ধকার যুগের অবসানের পর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে দেশের হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ব্রান্ডিং ক’রে সুপ্রতিষ্ঠিত করা যাবে।

তিনি, আবহমান বাংলার সুপ্রাচীন সংস্কৃতি তুলে ধরে বলেন,এ সংস্কৃতি গ্রীক ও মেসোপটেমিয়া থেকে সমৃদ্ধ ও পুরানো। আমাদের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত স্থাপনাগুলোকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরে পর্যটক আকর্ষনের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী, কেবল পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালদ্বীপ,শ্রীলংকা,ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার মত দেশের ঘুরে দাঁড়ানোর কথা স্মরণ করে বলেন, আমাদের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগত স্থাপনাগুলোর প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে পর্যটকবান্ধব ক’রে গড়ে তুলতে হবে।
পর্যটন মন্ত্রী বলেন, দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কমিটি গঠণ করে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে ঐতিহ্যবাহী ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলো বাছাই করতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও যৌথ কমিটি গঠনের কথা বলেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন,উভয় মন্ত্রণালয় যৌথ ভাবে কাজ করলে পর্যটন থেকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ থেকে ৮ শতাংশ অর্জন সম্ভব যা বর্তমানে রয়েছে ২-৩ শতাংশ। তিনি পর্যটন খাতের বিকাশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

এর আগে, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে Unlocking Bangladesh’s creative Economy Through Cultural Tourism শিরোনামে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন।
উপস্থাপনায় জানানো হয়, বিশ্ব পর্যটকের ৪০ শতাংশই সাংস্কৃতিক পর্যটনে আগ্রহী, বিধায় সেই বিষয়কে মাথায় রেখে সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে কাজ করতে হবে। এতে বিভিন্ন মডেলের মাধ্যমে এ দেশের সাংস্কৃতিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ সাজিয়ে পর্যটকবান্ধব করার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি সহ উভয় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও সংবাদ