ঢাকা

ধামরাইয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসকের ব্যতিক্রমী সফর, শিক্ষা-ক্রীড়া ও মানবিক সহায়তায় দিনভর নানা কর্মসূচি

রনজিত কুমার পাল, সিনিয়র রিপোর্টারঃ ধামরাই উপজেলা প্রশাসনের বর্নাঢ্য আয়োজনে ধামরাই উপজেলা পরিষদের চত্বরে গাছের চারা রোপন,মেধাবী শিকার্থীদের সংবর্ধনা, শিক্ষা, ক্রীড়া,মানবিক সহায়তা কর্মসূচি, ও কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প কাজের শুভ উদ্বোধন করলেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা খানম।

ঢাকা জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইটভাটা রয়েছে ধামরাই উপজেলায়। তবে চলতি বছর এখানে কোনো প্রকার অবৈধ ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা খানম।

বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) দুপুরে ঢাকার ধামরাই উপজেলার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০ প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি আরোও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র বৈধ ও সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত ইটভাটাগুলোকেই কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে। এর বাইরে নিয়মনীতি অমান্য করে গড়ে ওঠা বাকি সব অবৈধ ইটভাটা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আল মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) , ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হুদা খান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম।

এ’সময় উপস্থিত ছিলেন ধামরাই উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ,শিক্ষক, শিক্ষার্থী,অভিভাবকবৃন্দ,সাংবাদিকবৃন্দ ও সুধীজন।

অনুষ্ঠান শেষে উপজেলার ১৮৬ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা, একটি বিদ্যালয়ের ৭০০ গাছের চারা বিতরণ, খেলার সামগ্রী, শিক্ষা উপকরণ ও বেদে পল্লীতে টিন,প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ার বিতরণ, নগদ টাকা ও খাবার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়াও হ্যালো ডিসি আপ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হয়।

ধামরাই পৌরসভার ৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের শুভ উদ্বোধন করেন।

ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতেও অংশ নেন জেলা প্রশাসক। শিক্ষার মানোন্নয়নে উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় এ-প্লাস পাওয়া ১৮৬ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এছাড়া ৪২ জন প্রাথমিক শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা বিতরণ করা হয়। উদ্যোক্তা ও আত্মকর্মীদের মধ্যে ঋণ বিতরণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্পোর্টস ক্লাবে ক্রীড়া সামগ্রী, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পরিচালিত স্কুলে শিক্ষা উপকরণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। তিনটি প্রতিবন্ধী স্কুলেও দেওয়া হয় শিক্ষা উপকরণ।

‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জন দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তির মধ্যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি গ্রাম পুলিশদের মধ্যে পোশাক ও সরঞ্জাম এবং আব্দুস সোবহান মডেল স্কুলের ৭০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে পল্লীর ৬৩টি পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়া ১২ জনকে ঢেউটিন দেওয়া হয়। প্রত্যেককে ৬ হাজার টাকা করে মোট ৭২ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। পল্লীর ১১৩ জনের মধ্যে শাড়ি ও থ্রিপিস এবং ২০০ শিশুর মধ্যে খেলনা বিতরণ করা হয়।

এই বিভাগের আরও সংবাদ