”জাতীয় প্রেস ক্লাবে নতুন নাগরিক মঞ্চ ‘সিএনআই’ এর আত্মপ্রকাশ”


ঢাকা: বাংলাদেশের সামগ্রিক জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতি গবেষণা, কৌশলগত বিশ্লেষণ এবং গঠনমূলক নীতি সংলাপের উদ্দেশ্যে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নির্দলীয় নাগরিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে সিটিজেনস ফর ন্যাশনাল ইন্টারেস্টস (সিএনআই)। ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক বিশেষ সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থ: অনুষ্ঠানে সিএনআই-এর সভাপতি ও বিশিষ্ট সাংবাদিক রিটা রহমান স্পষ্ট করে বলেন, “সিএনআই কোনো রাজনৈতিক দল নয় এবং এটি কোনো দলীয় বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে না”। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই মঞ্চটি সাধারণ নাগরিকদের মতামত শুনবে, সঠিক তথ্য ও প্রমাণের প্রতি শ্রদ্ধা রাখবে এবং জাতীয় কল্যাণে দেশের সকল প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের সাথে গঠনমূলকভাবে কাজ করবে।
মূল লক্ষ্য ও কাজের পরিধি:
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মিলু চৌধুরী সিএনআই-এর মূল লক্ষ্যগুলো তুলে ধরে জানান, এই প্ল্যাটফর্মটি স্বাধীন নীতি গবেষণা, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, নাগরিক সম্পৃক্ততা এবং নীতিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সংজ্ঞায়িত ও এগিয়ে নিয়ে যাবে। তারা মূলত আঞ্চলিক পানি ও নদী সংকট, সীমান্ত সমস্যা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত: অনুষ্ঠানের মূল বক্তা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী দেশের বর্তমান সংকটকালীন মুহূর্তের কথা উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন যে, এই নবগঠিত মঞ্চটি দেশের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় এবং নাগরিক সমাজকে সচেতন করতে সফল ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, গবেষক, তরুণ সমাজ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং প্ল্যাটফর্মটির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
সিএনআই-এর মহাসচিব নুরুল হুদা মিলু চৌধুরী বলেন, এই প্ল্যাটফর্মটি স্বাধীন নীতি গবেষণা, কৌশলগত গবেষণা, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, নাগরিক সম্পৃক্ততা, গণসংলাপ, নীতি উদ্ভাবন এবং নীতিনির্ধারক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে গঠনমূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নিয়ে গবেষণা, বিশ্লেষণ, সংজ্ঞায়ন ও তা এগিয়ে নিয়ে যাবে। সিএনআই-এর সহ-সভাপতি ক্যাপ্টেন রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের একটি নতুন কৌশলগত চিন্তার সংস্কৃতি প্রয়োজন, যা নিরাপত্তার সাথে উন্নয়ন, পানির সাথে কূটনীতি, যোগাযোগের সাথে সার্বভৌমত্ব, দুর্নীতি দমন প্রচেষ্টার সাথে জাতীয় উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকারের সাথে জাতীয় স্থিতিশীলতাকে সংযুক্ত করবে।



