নিউজিল্যান্ডের মিনিস্ট্রি ফর প্রাইমারী ইন্ডাস্ট্রিজ এর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের বৈঠক


বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে মিনিষ্ট্রি ফর প্রাইমারী ইন্ডাস্ট্রিজ এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আতাউর রহমান খান এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল নিউজিল্যান্ডের মিনিষ্ট্রি ফর প্রাইমারী ইন্ডাস্ট্রিজ (এমপিআই) এর সঙ্গে এক বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কৃষি ও খাদ্যপণ্য সংক্রান্ত বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। মিনিষ্ট্রি ফর প্রাইমারী ইন্ডাস্ট্রিজ এর দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক প্রধান ডায়না রেইচ নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ডের উন্নতমানের বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্যের রপ্তানি ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উন্নয়ন এবং ক্রমবর্ধমান ভোক্তা বাজারের কথা তুলে ধরে দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
আলোচনায় বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে কৃষি প্রযুক্তি, দুগ্ধ শিল্প, কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্পে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের বৃহৎ ভোক্তা বাজার ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে কৃষিজাত পণ্য, তাজা ফল, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং অন্যান্য পণ্যের নিউজিল্যান্ডের বাজারে প্রবেশ সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে Import Health Standards (IHS), স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (SPS) ব্যবস্থা, পণ্য মানের পারস্পরিক স্বীকৃতি (Mutual Recognition Agreement) এবং সংশ্লিষ্টদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উন্নতমানের ফুড টেস্টিং ল্যাব স্থাপন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, পেস্টিসাইড অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং ইলেকট্রনিক ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেশন (e-Phyto) ব্যবস্থায় নিউজিল্যান্ডের কারিগরি সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) আলোচনার সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সুসংগঠিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের Regional Comprehensive Partnership Agreement(RCEP)-এ যোগদানের ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন কামনা এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের যাত্রা আরও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে ট্রানজিশনের সময়সীমা আরও তিন বছর বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। দুই দেশের ব্যবসায়িক ফোরাম প্রতিষ্ঠা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ এবং নিয়মিত তথ্য বিনিময়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল আশা প্রকাশ করে যে, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে দুই দেশের কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।



