কুমিল্লা

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও কায়কোবাদের অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

কুমিল্লার মুরাদনগরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের অনুসারী ও অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার অনুসারী শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় যেকোনো সংঘাত এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে মুরাদনগর থানা পুলিশ।

রবিবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১ টায় মুরাদনগর সদর এলাকায় বিএনপি নেতা ও অনুসারীদের বিরুদ্ধে প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল করেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের অনুসারী শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর দেড়টার দিকে একই স্থানে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল করে সাবেক এমপি ও উপমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের অনুসারী শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভের ফলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সতর্ক অবস্থান নেয় পুলিশ। সমাবেশ শেষে উপদেষ্টা আসিফের অনুসারী শিক্ষার্থীরা বিএনপির কার্যালয় অতিক্রম করে কাজী নোমান আহমেদ ডিগ্রি কলেজে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলার দিকে চলে যান।

সমাবেশে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের অনুসারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘গত ৩০ এপ্রিল স্থানীয় বিএনপির নেতারা আমাদের জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগের দাবির মিছিলে নিয়ে আসে। আমরা আসতে চাইনি।’ তবে এ সময় কাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে তার নাম জানতে চাইলে তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি বিক্ষোভকারীরা।

কাজী নোমান আহমেদ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রুবাইয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ৩০ তারিখ শিক্ষকরা আমাদেরকে জোর করে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়ার পদত্যাগের মিছিল নিয়ে আসেন। আমাদের ওপর একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে। আমার ভাই আজকের এই প্রোগ্রামের আসার কথা ছিল, কিন্তু তাকে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। আমার পরিবারের ওপর টর্চার করা হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার পরিবারের সুরক্ষা চাই।’ অপরদিকে, বিএনপি নেতা কায়কোবাদের অনুসারী শিক্ষার্থীরা এ অভিযোগ প্রত্যাহার করে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করেছেন। তাদের দাবি, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও তার অনুসারীরা জোরপূর্বক তাদের মিছিলে আনা হয়েছে বলে যে দাবি করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট।

আসিফ মাহমুদ মুরাদনগরে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা এবং প্রশাসন দিয়ে হয়রানি করার কারণে তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের কাউকে জোরপূর্বক বা ভয়ভীতি দেখিয়ে মিছিলে আনা হয়নি। আজকে যারা বিক্ষোভ করেছে তারা নোমান আহমেদ কলেজের শিক্ষার্থী নয়। আপনারা যদি কলেজে খোঁজ নেন তাহলে জানতে পারবেন।

তারা আরো বলেন, গত ৫ আগস্ট মাথায় কাফনের কাপড় পরে যেভাবে স্বৈরাচার দেশ ছাড়া করেছি, কেউ যদি আবার স্বৈরাচারের দোসর হয়ে ফিরে আসতে চায়, তাদের পরিণতিও একই রকম হবে।

মুরাদনগর কাজী নোমান আহমেদ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুস সাত্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, আজ কলেজে বৃক্ষরোপণ ও মাদকবিরোধী কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কলেজের কোনো শিক্ষার্থী আজকের বিক্ষোভে অংশ নেয়নি। মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, দুই পক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। কোনো সমস্যা হয়নি। তবে পার্শ্ববর্তী দেবীদ্বার থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য আনা হয়েছে। সমাবেশ স্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা ছিল।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরে কুমিল্লার মুরাদনগরে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়ার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যার সূত্রপাত হয় গত ২৬ মার্চ রাতে। ওই রাতে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক এক শ্রমিক দল নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে দুটি মামলা হয়। মামলার পর অনেক নেতা এখনো পলাতক রয়েছেন।

এই বিভাগের আরও সংবাদ