রেফারিকে গালি দিয়ে নিষিদ্ধ জোসে মরিনিও


ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে ছিল এ এস রোমা। ইতালিয়ান দলটিকে প্রথম ইউরোপা লিগের শিরোপা জেতানোর অপেক্ষায় ছিলেন কোচ জোসে মরিনিও। তবে সেভিয়ার কাছে হেরে শিরোপা জেতার স্বপ্ন পূরণ হয়নি মরিনিও এবং রোমার।
গত ৩১ মে বুদাপেস্টে ইউরোপের দ্বিতীয় সেরা ক্লাব প্রতিযোগিতাটির ফাইনালে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে রোমাকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জেতে সেভিয়া।
৪০টি ফাউলের সেই ম্যাচে মোট ১৪টি হলুদ কার্ড দেখান রেফারি অ্যান্থনি টেইলর, যা ইউরোপা লিগের কোনো ম্যাচে সর্বোচ্চ। তাছাড়া হলুদ কার্ডপ্রাপ্ত বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই ছিল রোমার, যার মধ্যে ছিলেন মরিনিও নিজেও।
তাই শিরোপা বঞ্চিত হয়ে ম্যাচ শেষে ‘পক্ষপাতী রেফারিং’ নিয়ে ক্ষোভ জানান ৬০ বছর বয়সী মরিনিও। রেফারির উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ ওঠে পর্তুগিজ এই কোচের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে পরে উয়েফা তদন্তে নামে।
বুধবার (২১ জুন) উয়েফা জানিয়েছে, ইউরোপা লিগের ফাইনালের পরের ঘটনায় শাস্তি পেয়েছেন মরিনিও। এ এস রোমা কোচকে চার ম্যাচের জন্য টাচলাইনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
এ ছাড়া ক্লাব হিসেবে রোমাকেও শাস্তি দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবল কর্তৃপক্ষ। ইতালিয়ান ক্লাবটি ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় তাদের পরবর্তী অ্যাওয়ে ম্যাচে টিকিট বিক্রি করতে পারবে না। পাশাপাশি জরিমানা দিতে হবে ৫৫ হাজার ইউরো।
ম্যাচের পর এক ভিডিওতে দেখা যায়, পুসকাস অ্যারেনার বাইরে ম্যাচ অফিসিয়ালদের লক্ষ্য করে চিৎকার করছেন মরিনিও। এ ছাড়া স্টেডিয়ামের পার্কিং লটে রেফারি টেইলরের সামনে গিয়ে কটু মন্তব্য করছেন পর্তুগিজ কোচ।
পরে রোমা সমর্থকেরা বিমানবন্দরে টেইলর ও তার পরিবারকে আক্রমণ করেন। এ ঘটনায় এক ইতালিয়ান নাগরিককে গ্রেপ্তারও করা হয়। টেইলরের সঙ্গে এমন আচরণের নিন্দা জানায় ইংল্যান্ডের ম্যাচ অফিশিয়ালদের সংগঠন পিজিএমওএল।
পরে রেফারি টেইলরের উদ্দেশে অপমানজনক বা অশালীন ভাষা ব্যবহার করার দায়ে মরিনিওর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। যার বিচারে মরিনিওকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো আজ।
উয়েফা জানিয়েছে, সমর্থকদের আচরণের কারণে রোমাকেও শাস্তি পেতে হবে। আগামী মৌসুমে ইউরোপা লিগে খেলবে রোমা। প্রতিযোগিতায় প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচে রোমার কোনো সমর্থক টিকিট পাবেন না। এ ছাড়া জরিমানা তো আছেই।
রোমার শাস্তি অবশ্য এখানেই শেষ নয়। ইউরোপা লিগ ফাইনালে তাদের সমর্থকেরা স্টেডিয়ামে যে ভাঙচুর চালিয়েছে, তার জন্য আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হাঙ্গেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে মীমাংসা করতে বলা হয়েছে।



