খুলনায় হত্যা প্রচেষ্টা মামলার আসামী ও মাদক ব্যবসায়ী ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার


আহছানুল আমীন জর্জ, খুলনা প্রতিনিধি : বাগেরহাটের চাঞ্চল্যকর ঠিকাদার মো: সিরাজুল ইসলাম মনক হত্যা প্রচেষ্টা মামলার আসামী ও মাদক ব্যবসায়ী আলামিন শেখকে ৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব। ১৬ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাত টার দিকে খুলনা মহানগরীর জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব – ৬, খুলনার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মুহাম্মাদ মোসতাক আহমদ জানান, আলামিন শেখ বাগেরহাট এলাকার একজন মাদক ব্যবসায়ী। প্রেম করে দিপাকে বিয়ে করে। এরপর তাকেও এ ব্যবসায় যুক্ত করে সে। বাগেরহাটের ঠিকাদার ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম মনককে হত্যা চেষ্টার বিষয়ে তিনি আরও জানান, আলামিনের প্রথম স্ত্রীর সাথে ওই ব্যবসায়ীর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। এ বিষয়টি জানতে পেরে আলামিন প্রথম স্ত্রীকে ছেড়ে দেয়। এর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে ঠিকাদার ব্যবসায়ী হত্যার চেষ্টা করে সে। কিন্তু গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
অপরদিকে বাগেরহাটের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম মনক জানান, এক সময়ে নেশাগ্রস্ত ছিলেন তিনি। আলামিনের কাছ থেকে মাদকও কিনত সে। এক সময়ে সংসার ভাঙ্গার জন্য আলামিন মনককে দোষারোপ করতে থাকে। কিন্তু আসামীর স্ত্রীর সাথে তার কোন সম্পর্ক ছিলনা। এটা আসামীর ভুল ধারণা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সে আমার ওপর আক্রমণ করেছে। সে প্রায়ই আমাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দিত। নেশা ছেড়ে দেওয়ার পর মাদক বিরোধী কর্মকান্ডে তিনি বাগেরহাটে বেশ ভূমিকা রাখার জন্য তাকে হত্যার জন্য সেদিন গুলি করা হয়েছিল বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
সিরাজুল ইসলাম মনকের বড় ভাই মো: রেজাউল ইসলাম জানান, আমরা ভাই সম্পর্কে আসামী আলামিন শেখ যে তথ্য দিয়েছে তা সঠিক নয়। সে প্রশাসনের কাছে আটক হয়ে হত্যা প্রচেষ্টার এ মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য তাদের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ৮ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে ঠিকাদার সিরাজুল ইসলাম বাগেরহাট খানজাহান আলী মাজার হতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করে। পথিমধ্যে তার ফুফাতো ভাই, বোন ও ভাবীর সাথে মাদক ব্যবসা এলাকা থেকে দুর করার বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিল। এ সময় আলামিন শেখ ও তার সহযোগীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কয়েকটি গুলি ছেড়ে। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে একটি তার পায়ের উরুতে লাগে। পরে সন্ত্রাসীর মোটরসাইকেল চালিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সিরাজুলের বড় ভাই বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করে। পরে র্যাবের অাভিযানিক দলের ছায়া তদন্ত শুরু করে ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব সদস্যরা আলামিন শেখকে আটক করতে সক্ষম হয়।



