রাজশাহী

বাগমারায় বেলঘরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিবাদে পাল্টা মানববন্ধন

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বেলঘরিয়া হাট ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ তুলে গতকাল অনুষ্ঠিত মানববন্ধনের প্রতিবাদে পাল্টা মানববন্ধন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয়রা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে অত্র মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেওয়া বক্তারা গতকালের মানববন্ধনে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে তারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্তের দাবি জানান।

এর আগে রোববার শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষক-কর্মচারীদের যথাসময়ে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না হওয়া, শিক্ষার্থী কমে যাওয়া, ফলাফল তুলনামূলক খারাপ হওয়া, নিয়োগ বাণিজ্য, নারীসংক্রান্ত অভিযোগসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণ দাবি করা হয়।

তবে এর পরের দিনই এসব অভিযোগের প্রতিবাদে মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ আব্দুল হক বলেন, মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছুদিন ধরে একটি পক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে। সেই বিরোধের জের ধরে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটিকে এবং অধ্যক্ষকে বিতর্কিত ও হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনজনের নাম তালিকা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়ার সহধর্মিণী এবং স্থানীয় জাহিদ হোসেনের নামও রয়েছে।

কমিটি কীভাবে অনুমোদিত হবে, সেটি তারা জানেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কমিটি নিয়ে বিরোধের কারণে মিথ্যা অভিযোগ তুলে স্বনামধন্য এই মাদ্রাসা ও অধ্যক্ষকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি মাদ্রাসায় এসে অধ্যক্ষ কে মারধরেরও হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমরা এসব অভিযোগ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার দাবি করছি।”

অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম বলেন, “গতকালের অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমি অধ্যক্ষ হিসেবে কেমন, তা আমার সহকর্মী ও এলাকাবাসী ভালোভাবেই জানেন। শুধুমাত্র পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

মানববন্ধনে উপস্থিত সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও গতকালের মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগের প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, কোনো ব্যক্তি বা কমিটি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা উচিত নয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাগমারা উপজেলা জামায়াতের আমির ও মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী হাফেজ বাবুল হোসাইনসহ মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এই বিভাগের আরও সংবাদ