বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্ক ও শ্রম খাতের উন্নয়ন নিয়ে শ্রম মন্ত্রীর সাথে জার্মান ভাইস মিনিস্টারের বৈঠক


আজ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জার্মান ফেডারেল ইকোনমিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রির ভাইস মিনিস্টার ড. বার্বেল কফলার। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজসহ একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আব্দুর রহমান তরফদার
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অন্যান্য মন্ত্রীদের সঙ্গে আপনাদের সাক্ষাৎ আমাদের দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও জোরদার করবে। জার্মানির সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘ সহযোগিতামূলক সম্পর্কের আমি ভূয়সী প্রশংসা করছি।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য ও গতিশীল নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শ্রমিকদের শোভন কাজ, কল্যাণ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে শতভাগ প্রতিশ্রুতবদ্ধ। শ্রমিকের ন্যায্য ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শক্তিশালী সামাজিক সংলাপ, শ্রম অধিকার এবং শোভন কর্মসংস্থান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার, যা নির্বাচনী ইশতেহারেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
সরকারের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বাংলাদেশ শ্রম আইনের সংশোধনী পাস করা হয়েছে। বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলও কনভেনশন নম্বর ১৫৫, ১৮৭ ও ১৯০ অনুসরণ করেছে এবং সামাজিক সংলাপ, বিরোধ নিষ্পত্তি ও শ্রম প্রশাসনকে শক্তিশালী করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে সংশোধিত আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মাধ্যমে শ্রমিকদের সার্বিক উন্নতিসহ দায়িত্বশীল উদ্যোক্তা, উৎপাদনশীলতা ও টেকসই বিনিয়োগের জন্য একটি অত্যন্ত সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে।
এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম (EIS) প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতে এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম পাইলট আকারে পরিচালিত হচ্ছে। আইএলও কনভেনশন নম্বর ১২১-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই স্কিমের আওতায় কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত পঙ্গুত্ব বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারকে মাসিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। বর্তমানে এই পাইলট স্কিমটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং চামড়া ও জুতা খাতে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। স্কিমটিকে জাতীয় রূপ দিতে বর্তমানে উপযুক্ত অর্থ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নির্ধারণের কাজ চলছে। এ প্রক্রিয়ায় জার্মান সরকারের সহযোগিতার জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জার্মান ফেডারেল ইকোনমিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রির ভাইস মিনিস্টার ড. বার্বেল কফলার শ্রম আইন বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এটি একটি বড় অগ্রগতি। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে এটি প্রয়োগে আমরা বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।
ড. কফলার আরও বলেন, মর্যাদাপূর্ণ বা শোভন কাজ ছাড়া কোনো ব্যবসায় মডেল টেকসই হতে পারে না। জার্মানিতে পূর্বে কেবল স্বল্প মূল্যে কাপড় কেনাই প্রধান লক্ষ্য ছিলো, কিন্তু বর্তমানে ভোক্তারা কাপড় তৈরি করা শ্রমিকদের সুস্বাস্থ্য এবং ভালো কর্মপরিবেশ সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন ও চিন্তাভাবনা করে।
উক্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আবদুর রহিম খান, অতিরিক্ত সচিব আ স ম আশরাফুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মোঃ হুমায়ুন কবীর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মোঃ ফরহাদ সিদ্দিক এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আবদুছ সামাদ আল আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



