জাতীয়

এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি শুধু উড়োজাহাজ কেনায় সীমাবদ্ধ নয় : ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেছেন, বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে এয়ারবাসের চুক্তি শুধু উড়োজাহাজ কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি এভিয়েশন খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও বৃহত্তর অংশীদারিত্বের সূচনা।

বুধবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও এয়ারবাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা শুধু উড়োজাহাজ কেনার চেয়েও অনেক বড় কিছু।’

রাষ্ট্রদূত জানান, নতুন উড়োজাহাজগুলো সময়মতো এবং সফলভাবে বহরে যুক্ত ও বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করতে এয়ারবাস প্রশিক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং প্রকৌশল সহায়তাসহ একটি সমন্বিত সহায়তা প্যাকেজ প্রদান করবে।

চুক্তির আওতায় বিমান চারটি এয়ারবাস এ৩৫০ ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ এবং ছয়টি এ৩২১ ন্যারো-বডি জেট সংগ্রহ করবে।

রাষ্ট্রদূত সেরে-শারলে বিমান ও এয়ারবাসকে এ চুক্তির জন্য অভিনন্দন জানিয়ে এটিকে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

এয়ারবাস শুধু উড়োজাহাজ সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না উল্লেখ করে ফ্রান্স রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের বৃহত্তর এভিয়েশন ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করতে বিমান ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষতা উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, ব্র্যান্ডিং এবং বহর পরিকল্পনা।

রাষ্ট্রদূত বলেন, এয়ারবাসের ন্যারো-বডি এবং ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজের সমন্বয় বিমান-কে আঞ্চলিক ও দূরপাল্লার রুটে পরিচালনগত ক্ষেত্রে অধিকতর নমনীয়তা প্রদান করবে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উড়োজাহাজের বহর জ্বালানি সাশ্রয়, প্রতি আসন-মাইলে ব্যয় কমানো এবং এয়ারবাস পরিবারের বিভিন্ন উড়োজাহাজের মধ্যে অধিক সামঞ্জস্য নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সেরে-শারলে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন লক্ষ্যের ভিত্তিতে কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রান্সের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব রয়েছে।’

বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে একটি প্রতিযোগিতামূলক জাতীয় এয়ারলাইন গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এই আকাঙ্ক্ষা নতুন ও প্রতিযোগিতামূলক উড়োজাহাজ সংগ্রহের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।’

বাংলাদেশের আধুনিকায়ন ও প্রবৃদ্ধিতে, বিশেষ করে বৃহত্তর বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে, ফ্রান্স সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

দীর্ঘমেয়াদি বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স গতকাল সন্ধ্যায় এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করে।

চুক্তির আওতায় রয়েছে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারো-বডি জেট।

এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জার্গেন ওয়েস্টারমেয়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসাইন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

এয়ারবাসের সঙ্গে এ চুক্তি এবং পৃথকভাবে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ সংগ্রহের চুক্তিসহ বিমানের পরিকল্পিত উড়োজাহাজ সংগ্রহের পাইপলাইনে এখন মোট ৩৫টি জেট রয়েছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ