মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তরুণদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান


দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি ও শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বঙ্গভবনে ঠাকুরগাঁও জেলার তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আহ্বান’-এর আহ্বায়ক লুকমান শারীফ ও সদস্যসচিব ডা. তাহমিদ আহমেদের নেতৃত্বে ৩৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করা না গেলে দেশের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। মাদকের কারণে বহু তরুণের সম্ভাবনাময় জীবন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই মাদক নির্মূলে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে কার্যকর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি বলেন, একটি জনপদকে সমৃদ্ধ করতে হলে সেই অঞ্চলের মানুষকে জাগিয়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন ও মানুষের কল্যাণে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ সময় ‘আহ্বান’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ঠাকুরগাঁও স্কুলভিত্তিক সায়েন্স ফেস্ট, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট, মেডিকেল ক্যাম্প, শীতবস্ত্র বিতরণ, জেন-জি কার্নিভালসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।
ঠাকুরগাঁও জেলার সার্বিক উন্নয়নে তরুণদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জেলার অর্থনীতি ও কৃষির উন্নয়ন, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণ, মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা, মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিরসন এবং জনগণের সরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ সহজ করতে তরুণ ও পেশাজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। রাষ্ট্রপতি তরুণ প্রজন্মকে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও সাংগঠনিক জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে ‘আহ্বান’-এর সদস্যরা রাষ্ট্রপতিকে তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে তার ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তারা।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সুন্দর, মানবিক, আলোকিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি সংগঠনের কার্যক্রমে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি তাদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সব সদস্যের মঙ্গল কামনা করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব এবং বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



