আন্তর্জাতিক

গুলি করে সেনাবাহিনীর মেজরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে অনুমোদন ট্রাম্পের

ফোর্ট হুডে ১৩ সেনাকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির সামরিক বাহিনীতে এই পদ্ধতিতে এটিই হবে প্রথম মৃত্যুদণ্ড।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তথ্যটি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের সুপারিশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন। এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব।

২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে গুলি চালান তৎকালীন সেনা মেজর নিদাল হাসান। এতে ১৩ জন নিরস্ত্র সেনা নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হন। ওই হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক ঘাঁটিতে যুদ্ধের বাইরে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।

ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা ও মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক মনোরোগ চিকিৎসক হাসান ২০১৩ সালের সামরিক আদালতে নিজেই হামলাকারী হিসেবে স্বীকার করেন। আদালতে তিনি দাবি করেন, আফগানিস্তানে মুসলিম ও তালেবানদের রক্ষার জন্য তিনি এ হামলা চালিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমাও চান।

বর্তমানে হাসান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার বন্দির একজন। সামরিক আইনে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। পাশাপাশি আপিল প্রক্রিয়া এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তও প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক মৃত্যুদণ্ডের ইতিহাস দীর্ঘ হলেও ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বিরল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে এই পদ্ধতিতে আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি।

রাজ্য পর্যায়ে অবশ্য কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইডাহো, মিসিসিপি, ওকলাহোমা ও ইউটা। গত বছর সাউথ ক্যারোলাইনায় ফায়ারিং স্কোয়াডে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ১৫ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এটিই ছিল এ পদ্ধতির প্রথম প্রয়োগ।

যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ মৃত্যুদণ্ড রাজ্য পর্যায়ে কার্যকর হলেও কেন্দ্রীয় সরকার ও সামরিক বাহিনীরও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। দেশটির ২৭টি অঙ্গরাজ্যে এখনো মৃত্যুদণ্ড আইনগতভাবে কার্যকর রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার প্রথম দিনেই তিনি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহাল করেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন কেন্দ্রীয়ভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।

ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশে মৃত্যুদণ্ডকে ‘সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ ও প্রাণঘাতী সহিংসতার’ জন্য শাস্তি এবং তা প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এই বিভাগের আরও সংবাদ