ভিন্নমতের কারণে আবরারকে হত্যা: অ্যাটর্নি জেনারেল


কেবল ভিন্নমতের কারণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেছেন, আবরার হত্যাকাণ্ড ফ্যাসিবাদের একটি চরম উদাহরণ।
আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি বলেন, ‘কেবল ভিন্নমতের কারণে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এটি ফ্যাসিবাদের একটি চরম উদাহরণ।’
আবরার হত্যা মামলার বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মামলাটির দ্রুত শুনানি অনেকটা আসামিপক্ষের ওপর নির্ভর করছে। তবে চূড়ান্ত শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ সব আসামির সাজা বহাল রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে বিচারিক আদালতে ২৫ আসামির বিরুদ্ধে সাজা হলেও মামলাটির এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। বিচারিক আদালতের রায়ের পর মামলাটি উচ্চ আদালতে যায়। বর্তমানে এটি আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে সাত বছর পেরিয়ে গেলেও আবরার হত্যা মামলায় দণ্ড কার্যকরের পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
এর আগে মামলার রায়ে হাইকোর্টও পর্যবেক্ষণ করেন, শুধু ভিন্নমতের কারণে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। নিজেদের বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী দাবি করা আসামিরা এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে পারেন না বলেও পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন আদালত।
আবরার হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে শিক্ষাঙ্গনে ভিন্নমত দমনের ভয়াবহ চিত্র সামনে আসে। বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরারকে একটি কক্ষে নিয়ে দীর্ঘ সময় নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। সেই ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দেয়। হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েটে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
সাত বছর পরও মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় আবরারের পরিবার ও স্বজনদের অপেক্ষা শেষ হয়নি। এখন আপিল বিভাগের শুনানির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে মামলার সব পক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, চূড়ান্ত শুনানিতে বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা বহাল রাখার জন্য তারা সর্বোচ্চ আইনি প্রচেষ্টা চালাবে।



