আন্তর্জাতিক

কুড়াল দিয়ে পাইলটকে হামলা সহকারী পাইলটের

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানের পাইলটকে ককপিটে থাকা কুড়াল দিয়ে হামলা করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সহকারী পাইলট। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি কৌঁসুলি জানিয়েছেন, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী বিমানটিতে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু ছিলেন।

বিমানটি যাত্রা শুরুর প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর হঠাৎ প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। এ সময় যাত্রীরা হামলাকারীকে কাবু করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে দুই বিকল্প পাইলট নিরাপদে বিমানটি সৌদি আরবে অবতরণ করান।

হামলায় আহত পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চার জানান, তিনি আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছিলেন। এ সময় বুঝতে পারেন বিমানটি নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে এবং তাকে কিছু একটা করতেই হবে। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে বললাম, আর একবার চেষ্টা করতে হবে। ভেতর থেকে দরজাটি খোলার জন্য শেষবারের মতো চেষ্টা করি।’ এরপর যাত্রীরা ককপিটে ঢোকার সুযোগ পান।

জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য সাধারণত ককপিটে একটি কুড়াল রাখা থাকে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি কৌঁসুলি জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি ও হামলার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারী ওমানের নাগরিক। নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, হামলাকারীকে কাবু করার পর সে ক্রুদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেছিল, ‘আমাকে মেরে ফেলো, আমাকে মেরে ফেলো!’

নেতানিয়াহু বলেন, ‘এতে স্পষ্ট যে সে আত্মহত্যাপ্রবণ ছিল। খুব সম্ভবত সে বিমানটি ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল।’ তার আরও দাবি, হামলাকারী ‘ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত হয়েছিল’।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ঘটনাটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হামলায় ছুরিকাঘাতে আহত পাইলটকে প্রথমে কাছের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে বিমানে করে আবুধাবিতে নেওয়া হয়। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ভারতীয় নাগরিক ওই পাইলট ‘সুস্থ আছেন এবং দ্রুত সেরে উঠছেন’। নিজেও আশাবাদী পাইলট মাচ্চার। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, আমি সুস্থ হয়ে আবার পুরোপুরি সক্ষম হয়ে উঠব।’

দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে। প্রথমে বিমানটি জরুরি পরিস্থিতির সংকেত পাঠায়। পরে ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপের সংকেতও পাঠানো হয়।

এক যাত্রী জানান, আচমকাই বিমানটি যেন দোলনার মতো প্রচণ্ডভাবে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। আলমোগ ইতালি বলেন, ‘বিমানটি হঠাৎ রোলারকোস্টারের মতো নিচে নামতে শুরু করে। প্রচণ্ড চাপ অনুভূত হচ্ছিল। প্রায় ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড দ্রুত নিচে নামার পর আবার স্থির হয়, এরপর আবার নিচে নামতে শুরু করে।’

এরপর যাত্রীরা ককপিটের দিকে ছুটে যান বলে জানান তিনি।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বৃহস্পতিবার জানান, ককপিট থেকে গোলমালের শব্দ শুনে প্রথমে বিমানের ভেতরে সতর্কতা জারি করেছিলেন ইসরায়েলি নারী তালি মানেস। তার স্বামী জভিকা মানেস এবং আরও তিন যাত্রী—ইয়ানিভ হায়ুন, চিকিৎসক শোতা মুসায়েভ ও আসাফ রাজুয়ান—ককপিটে ঢোকেন।

এর আগে আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মাচ্চার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে নেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ইয়ানিভ হায়ুন বলেন, হামলাকারী ‘বিমানটি অচল করে দিতে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট করার চেষ্টা করছিল’।

হায়ুন জানান, তিনি হামলাকারীকে গলা চেপে ধরে ককপিটের বাইরে টেনে আনেন। পরে অন্য যাত্রীরা তাকে চেপে ধরে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন। এরপর তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। বিমানটি ধীরে ধীরে আবার সমতল অবস্থায় ফিরতে শুরু করলে আরেক পাইলট তার কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন।

জভিকা মানেস ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমকে জানান, তিনি ও অন্য যাত্রীরা হামলাকারীকে তার নিজের ব্যবহার করা বাঁধন এবং শব্দ শোনার যন্ত্রের তার দিয়ে বেঁধে ফেলেছিলেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, ছুরিকাঘাতে আহত পাইলট, যাত্রী এবং বিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্য ‘নাইন-ইলেভেনের মতো একটি বিপর্যয় ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন’।

এই বিভাগের আরও সংবাদ