দক্ষ হয়ে বিদেশে না গেলে সংখ্যা বাড়িয়ে লাভ নেই: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী


প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের অবশ্যই দক্ষ হয়ে প্রবাসে যেতে হবে। আমরা যদি দক্ষ কর্মী পাঠাতে না পারি, তবে শুধু সংখ্যা বাড়িয়ে লাখ লাখ কর্মী পাঠিয়ে দেশের কোনো প্রকৃত লাভ হবে না।
আজ বৃহস্পতিবার শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের অভ্যন্তরে প্রবাসী কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্যে লাগেজ পরিবহনের জন্য ট্রলি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক পরিদর্শন কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরিদর্শনকালে তিনি বিদেশগামী যাত্রীদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের সুযোগ-সুবিধা, চাহিদা ও বিভিন্ন ভোগান্তির বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
যাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কর্মীদের সুবিধার্থে এখানে দ্রুত একটি ইমার্জেন্সি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। ইতোমধ্যে চিকিৎসা কেন্দ্রের স্থান নির্বাচনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী কর্মীদের প্রয়োজনীয় যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
বিমানবন্দরে প্রবাসীদের যাতায়াত ও অবস্থানগত সুবিধার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, অনেক সময় সময়সূচি বিপর্যয় বা ফ্লাইট বিলম্বের কারণে প্রবাসী যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিমানবন্দর শহর থেকে দূরে অবস্থিত হওয়ায় তাঁদের থাকা-খাওয়া নিয়ে সমস্যা আরও বাড়ে। এ সমস্যা দূর করতে বিমানবন্দরের পাশে রেস্টহাউস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে যাত্রীরা যেকোনো পরিস্থিতিতে সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে অবস্থান করতে পারেন।
পরবর্তীতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মত প্রতিকূল পরিস্থিতির পরও বিগত ৭ মাসে প্রায় ৪.৩৪ লাখ কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। সামনের দিনগুলোতে শ্রমবাজারে আরও ভালো ফলাফল দেখতে পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের আইনি সহায়তা জোরদার করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। মন্ত্রী প্রস্তাবটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন এবং প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আব্দুর রহমান তরফদারসহ মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বিমানবন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



