ট্যুরিজম

বাংলাদেশ-তুরস্কের বিমান চলাচল ও পর্যটন খাত জোরদারের আহ্বান

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি। আজ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেন (H.E. Ramis Şen)-এর নেতৃত্বে তুরস্কের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠককালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বৈঠকে তুরস্কের প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিলাল বেলিউর্ট (Mr. Bilal Belyurt), কমার্শিয়াল কাউন্সেলর, তুরস্ক দূতাবাস এবং ইসলাম গুরে (Mr. Islam Gure), কান্ট্রি ডিরেক্টর, টার্কিশ এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ।

বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা, পর্যটন ও মানুষের মধ্যে যোগাযোগের মতো খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ-তুরস্কের মধ্যে বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বর্তমানে টার্কিশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে তুরস্কের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়ার পর অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের আন্তর্জাতিক যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের আন্তর্জাতিক যাতায়াতের চাহিদা রয়েছে। এ কারণে এসব বিমানবন্দর থেকে অতিরিক্ত ফ্লাইট চালু হলে উভয় দেশের মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ হবে।

পর্যটন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ১,৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP)-এর আওতায় উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পর্যটনকেন্দ্রের অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান বৃদ্ধিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকার সক্রিয়ভাবে উৎসাহিত করছে। তুরস্কের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তুরস্কের পর্যটন উন্নয়ন, হসপিটালিটি ও সংশ্লিষ্ট খাতের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, ব্যবসা, পর্যটন ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করতে ভিসা সুবিধা সহজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ যত বাড়বে, দুই দেশের সম্পর্ক ততই গভীর ও বহুমাত্রিক হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও তুরস্ককে ভিসা সুবিধা সহজীকরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিমান চলাচল, পর্যটন, বিনিয়োগ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদারের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।

শেষে মন্ত্রী বাংলাদেশ-তুরস্কের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণই উপকৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই বিভাগের আরও সংবাদ