সিরাজগঞ্জ

শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা ও শ্লীলতাহানি: আটক ৩

মাহবুবুল আলম, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিকাশ সার্ভিস পয়েন্টে ডেকে নিয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি, ব্লাকমেইল এবং জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় ৩ বিকাশ কর্মীকে আটক করেছে শাহজাদপুর থানা পুলিশ। বুধবার রাতে ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী শাহজাদপুর বিকাশ সার্ভিস পয়েন্টের ৩ কর্মচারীর নাম উল্লেখ করে শাহজাদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে রাতেই অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশ।

আটককৃতরা হলো, শাহজাদপুর উপজেলার ডাকবাংলাপাড়া এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের পুত্র ও শাহজাদপুর বিকাশ সার্ভিস পয়েন্টের আইটি বিশেষজ্ঞ তারেক রাব্বি (৩৬), বাজিয়ার পাড়া গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিনের পুত্র ও বিকাশ সার্ভিস পয়েন্টের প্রহরী মোঃ হোসেন আলী (৪৮) এবং বেড়াকুচাটিয়া গ্রামের মোঃ সাইদুল ইসলামের পুত্র বিকাশ কর্মী চয়ন ইসলাম (২৭)।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৩য় বর্ষের ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী শাহজাদপুর থানাধীন ডাকবাংলাপাড়ার পশ্চিম পাশে একটি বাসার ৩য় তলায় মেস হিসেবে ভাড়া থাকেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তার এক পুরুষ বন্ধু ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মেসে আসেন এবং কিছু সময় অবস্থান করে চলে যান। ছাত্রীর রুমের পাশেই থাকা শাহজাদপুর বিকাশ সার্ভিস পয়েন্টের সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণে যুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনাটি লক্ষ্য করেন। ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০ টায় বিকাশ অফিসের লোকজন ভিকটিমকে ডেকে নিয়ে উক্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। বিকেলের মধ্যে টাকা না দিলে ফুটেজ ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি (ব্লাকমেইল) দেওয়া হয়।

একই দিন রাত সাড়ে ৮ টার দিকে অভিযুক্তরা ডাকবাংলাপাড়ার বিপ্লব কুমার সরকারের ৪ তলা বিল্ডিংয়ের বিকাশ অফিসে ভিকটিমকে পুনরায় ডেকে নেয়। সেখানে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তার কাছ থেকে সোনার চেইন দাবি করা হয়। একপর্যায়ে অন্য আসামিদের বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে মোঃ তারেক রাব্বি ভিকটিমকে একাকী পেয়ে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের উদ্দেশ্যে পরণের পোশাক খোলার চেষ্টা চালায়। ভিকটিম নিজেকে ছাড়িয়ে বের হতে গেলে বিকাশ সার্ভিস পয়েন্টের প্রহরী মোঃ সামাদ তাকে ঝাপটে ধরে শ্লীলতাহানি করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী তার বাড়িতে ফোন করার চেষ্টা করলে তার হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। সিঁড়ি দিয়ে নেমে পালিয়ে আসার সময়ও আসামিরা তার ওপর নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি চালায়।

ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী চিৎকার করতে করতে রাস্তায় নেমে আসলে স্থানীয় কয়েকজন সাক্ষী এগিয়ে আসেন এবং ঘটনাটি শোনেন। পরবর্তীতে ভিকটিম তার অভিভাবক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে পরামর্শ করে শাহজাদপুর থানায় এসে এজাহার দায়ের করেন।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ নাজমুল কাদের অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর রাতেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। আটককৃতদের বৃহস্পতিবার সকালে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ