ভোলায় সালিশে এক ঘণ্টা দেরিতে যাওয়ায় সন্তানের সামনে বাবাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত, ভিডিও ভাইরাল


স্টাফ রিপোর্টার: ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে একটি পারিবারিক সালিশ বৈঠকে মাত্র এক ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছানোকে কেন্দ্র করে সন্তানের সামনে বৃদ্ধ বাবাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত করার একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে জেলাজুড়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেদুয়া গ্রামের মাতাব্বর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে মেদুয়া গ্রামের রফিক মাতাব্বরের মেয়ে ঝর্ণার সঙ্গে একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নাল আবেদিনের ছেলে ফখরুদ্দিনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ফখরুদ্দিন শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে ফখরুদ্দিনের মনোমালিন্য হলে তার শাশুড়ি বিষয়টি সমাধানের জন্য ফখরুদ্দিনের পরিবারকে ডাকেন। প্রথমে আসতে অসম্মতি জানালেও পরবর্তীতে বিকেল ৪টায় সালিশে বসার কথা হয়। কিন্তু ফখরুদ্দিন তার বাবা জয়নাল আবেদিন ও তিন ভাইকে নিয়ে বিকেল ৫টায় (এক ঘণ্টা দেরিতে) শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছান।
বিকেল ৫টায় পৌঁছানোর পর ‘কেন দেরি হলো’—এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ফখরুদ্দিনের মামাশ্বশুর বিল্লাল, হেলাল, লোকমান ও মহিউদ্দিন সংঘবদ্ধ হয়ে ফখরুদ্দিনকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। এ সময় সন্তানকে বাঁচাতে বৃদ্ধ বাবা জয়নাল আবেদিন এগিয়ে এলে তাকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। বাবাকে রক্ষা করতে গিয়ে ফখরুদ্দিনের অন্য তিন ভাইও গুরুতর জখম হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রক্তে ভেসে যাওয়া বাবাকে জড়িয়ে ধরে শ্বশুরবাড়ির উঠানে কান্নাকাটি করছেন ফখরুদ্দিন, অথচ আশপাশের কেউ তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। খবর পেয়ে মারামারির চিত্র ধারণ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালানো হয় এবং তাদের ক্যামেরা ও মোবাইল ভাংচুর করা হয় বলে জানা গেছে।
পরে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক বশির আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বিল্লাল ও তার সহযোগীরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”



