ব্রিকস সম্মেলনে মোদি-পেজেশকিয়ান বৈঠক, মধ্যপ্রাচ্যে সংলাপের ওপর জোর


ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। ভারত সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দুই নেতার দ্বিতীয় বৈঠক।
পেজেশকিয়ানের প্রথম ভারত সফরকে স্বাগত জানিয়ে মোদি বলেন, ভারত ও ইরানের বন্ধুত্ব আরও এগিয়ে নিতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে চায়। ব্রিকস-সংক্রান্ত বৈঠকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের অংশগ্রহণের জন্য দেশটির প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন মোদি। ভারত জানিয়েছে, এ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য ‘সংলাপ ও কূটনীতিকেই’ এগিয়ে যাওয়ার প্রধান পথ হিসেবে দেখছে তারা। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি ভারতের গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ বলে উল্লেখ করা হয়।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির চলমান সংকটের মধ্যে জ্বালানি ও অন্যান্য সরবরাহবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ওপর জোর দিয়েছে ভারত। মোদি বলেন, নাবিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন পেজেশকিয়ান। সে সময় সংঘাত বন্ধে সব ধরনের প্রচেষ্টার প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা জানান মোদি। অন্যদিকে, সহিংসতা বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনায় ফেরাতে ভারতের বিস্তৃত কূটনৈতিক সম্পর্ক কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন পেজেশকিয়ান।
শুক্রবার ব্রিকস বিজনেস ফোরামের বৈঠকেও বক্তব্য দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, বিশ্ব বর্তমানে জটিল পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন ও নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেন,ব্রিকসকে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে কোনো দেশ যেন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে অন্য দেশের বৈধ বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে ব্রিকসের নজর দেওয়া প্রয়োজন। তার মতে, ব্রিকস ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অন্যতম লক্ষ্য ছিল দেশগুলোকে ডলারের ওপর নির্ভরতা থেকে বের করে আনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করা।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত ও ইরানের মধ্যে সভ্যতাগত সম্পর্কের পাশাপাশি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। ব্রিকসের অংশীদার হিসেবে দুই দেশ অভিন্ন অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখতে কাজ করছে।
এদিকে, দিল্লিতে এবারের ব্রিকস সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির অবরোধ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য ও শুল্কনীতির কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে।



