বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার এই হার বড় শঙ্কার লক্ষণ: লারা


ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর শুধু সিরিজের ফল নয়, দলটির ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ব্রায়ান লারার আশঙ্কা, এই হারের পর অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার একই সময়ে অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এমনটা হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে অস্ট্রেলিয়াও।
ডারউইন টেস্টের আগে দুই দলের শক্তির তুলনায় অস্ট্রেলিয়াকেই এগিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সেই পার্থক্য একেবারেই দেখা যায়নি। বাংলাদেশের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সামনে মাত্র সাড়ে তিন দিনের মধ্যেই ৯ উইকেটে হেরে যায় স্বাগতিক দল।
এই পরাজয়ে সিরিজ হারার শঙ্কার পাশাপাশি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পথেও বড় ধাক্কা খেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। একই সঙ্গে সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনা এবং দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নও আরও জোরালো হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য অবসরপ্রক্রিয়া নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন লারা। তার মতে, একসঙ্গে অনেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে গেলে দলের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। তাই অভিজ্ঞদের বিদায় নেওয়ার ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে পরিবর্তনের পক্ষে তিনি।
অস্ট্রেলিয়ান কোড স্পোর্টসকে লারা বলেন, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা পর্যায়ক্রমে অবসর নিলে নতুন ক্রিকেটারদের দলে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এতে দলের ভারসাম্যও বজায় রাখা তুলনামূলক সহজ হয়।
নিজেদের দলের ইতিহাসের উদাহরণ টেনে অস্ট্রেলিয়াকে সতর্ক করেছেন সাবেক এই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান তারকা। ১৯৯২ সালের দিকে গর্ডন গ্রিনিজ, ভিভ রিচার্ডস, ম্যালকম মার্শাল ও জেফ ডুজনের মতো বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি অল্প সময়ের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় ধরনের পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল।
পরবর্তীতে লারার নেতৃত্বে ক্যারিবীয় ক্রিকেট ঘুরে দাঁড়ালেও সেই পরিবর্তনের সময়টা মোটেও সহজ ছিল না। তাই অস্ট্রেলিয়াকেও যেন একই ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে না হয়, সেটিই চান লারা।
অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে দলের বর্তমান রিজার্ভ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও পরিসংখ্যান তার প্রত্যাশা অনুযায়ী নয় বলে মনে করছেন লারা। তার আশঙ্কা, চার-পাঁচজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার যদি একই সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান, তাহলে তাদের শূন্যস্থান পূরণ করা অস্ট্রেলিয়ার জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়বে।


