ভোলা

চিকিৎসক সংকটে ভোলা সদর হাসপাতাল: ১৬ জন সামলাচ্ছেন হাজারও রোগী

ইয়ামিন হোসেন, ভোলা: দ্বীপ জেলা ভোলার ২২ লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র শেষ ভরসাস্থল ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। তবে হাসপাতালের বহিরাংশে বড় করে ‘২৫০ শয্যা’ লেখা থাকলেও বাস্তবে এটি চলছে মাত্র ৫০ শয্যার জনবল নিয়ে। প্রতিনিয়ত পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবে ধুঁকছে পুরো জেলা সদরের এই প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি।

​হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ৮৬ জন চিকিৎসকের মঞ্জুরীকৃত পদ রয়েছে। তবে কাগজে-কলমে পদায়ন করা আছে মাত্র ২১ জনকে। এর মধ্যে দুজন রয়েছেন দীর্ঘমেয়াদি অর্জিত ছুটিতে এবং আরও দুজন নিয়োজিত আছেন প্রশাসনিক দায়িত্বে। ফলে মাত্র ১৬ জন চিকিৎসকের কাঁধে চাপছে পুরো দ্বীপ জেলার হাজার হাজার রোগীর চিকিৎসাসেবার ভার।

​প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজারেরও বেশি রোগী ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। যেখানে অনুমোদিত পদের তুলনায় মাত্র সিকিভাগ চিকিৎসক কর্মরত, সেখানে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যেন এক অলীক স্বপ্নে পরিণত হয়েছে ভোলাবাসীর জন্য।

​করোনাকালে ভোলা সদর হাসপাতালে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য আইসিইউ (ICU) ইউনিট স্থাপন করা হলেও দক্ষ জনবলের অভাবে তা আজ পর্যন্ত চালু করা সম্ভব হয়নি। কোটি টাকার সরঞ্জাম অযত্নে পড়ে আছে, অথচ জরুরি সেবার অভাবে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

​সরেজমিনে ২২ জুলাই দুপুরে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি শিশু রোগী ভর্তি রয়েছে এখানে, যার মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে হামের মতো ছোঁয়াচে রোগীও। অথচ এতগুলো শিশুর দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন মাত্র একজন চিকিৎসক! একাই শত শত রোগী সামলাতে গিয়ে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন।

​হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোলার মানুষের জন্য ক্যাবিনেট বা নতুন মেডিকেল কলেজ যখন হওয়ার হবে, তা পরে দেখা যাবে। সরকারের কাছে আমাদের প্রথম দাবি—বর্তমান ২৫০ শয্যা হাসপাতালের প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও জনবল দ্রুত দেওয়া হোক।”

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিকিৎসকরাও তাঁদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন। চিকিৎসক ড. শুভ প্রসাদ জানান, “ভোলাবাসী মেডিকেল কলেজের দাবি নিয়ে সোচ্চার হলেও বর্তমান হাসপাতালে ডাক্তারদের শূন্যপদ বা পদায়ন নিয়ে পর্যাপ্ত কথা বলে না। এখানে যারা নতুন পদায়ন পান, তাঁরাও অল্প দিনের মধ্যে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান।”

​চিকিৎসক সংকট ও ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম জানান, “শূন্যপদগুলোর বিষয়টি চরম উদ্বেগের। আমরা শূন্যপদ পূরণ ও প্রয়োজনীয় জনবল পদায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত চিঠি পাঠাচ্ছি এবং বিষয়টি অবহিত রেখেছি।

​দ্বীপের ২২ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে ভোলা সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত পদায়ন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এই বিভাগের আরও সংবাদ