ঈদ মেলায় চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে গণপিটুনির ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ


মাহমুদ দোলন , পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের রামগঞ্জ বিলাসীতে ঈদ উপলক্ষ্যে আয়োজিত মেলায় চাঁদা উত্তোলন ও এক যুবদল নেতাকে গণপিটুনির ঘটনার জেরে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে উপজেলা বিএনপি। এ ঘটনায় টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়াও পৃথকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।
উপজেলা বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দল সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটিকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক খান এবং ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হামিদুল ইসলামকে শোকজ করেছে উপজেলা বিএনপি। এছাড়া ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য বিটুল ইসলাম ও ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য নুর ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়।
অপরদিকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলামকে বহিষ্কার করে। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বেলাল হোসেনের পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, বিটুল ইসলাম টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে জুলাই অভ্যুত্থানের পূর্বে তিনি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।
উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সুমন বলেন, বিটুল যুবদলের কেউ নন। তাই যুবদলের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণের উপায় নেই। এইদিকে বিটুল উপজেলা যুবদলের কেউ নন বলে দাবি করা হলেও গত একবছর থেকে বিটুল বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার ছাপিয়েছিলেন। যেখানে তিনি নিজেকে টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়াও দলীয় প্রায় সব প্রোগ্রামে ইউনিয়ন ও উপজেলার নেতৃবৃন্দের সাথে সরব উপস্থিতি দেখা গেছে বিটুলের। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অসংখ্য ছবি রয়েছে।
এর আগে, শনিবার ঈদুল ফিতরের নামায শেষে রামগঞ্জ বিলাসী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ এলাকায় মেলায় আগত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের নামে অতিরিক্ত চাঁদা দাবি করা হয়। এ নিয়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বিটুল ইসলাম গণপিটুনির শিকার হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পুরো ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট হলে দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে।
উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানান, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর অবস্থানে থাকবে দল।



