তিস্তারপাড়ে ঝুপড়ি ঘরে নিঃসন্তান রহিমার মানবেতর জীবনযাপন!


পরিমল চন্দ্র বসুনিয়া,লালমনিরহাট: তিস্তা নদীর পাড়ে কোনরকম ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন বৃদ্ধা রহিমা বেগম (৭৬)। বিয়ের কয়েক বছর পর স্বামী বছর উদ্দিন মারা গেলে সেই অভিমানে আর বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি তিনি। নিঃসন্তান আর নিঃসঙ্গ জীবন নিয়ে তিস্তা নদীর পাড়ে জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে ঠাঁই হয়েছে তার।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারি ইউনিয়নের ধুবনী এলাকার ভূমিহীন রহিমা বেগম বাড়ি। তিস্তা নদীর কোল ঘেঁষে প্রতিবেশীর দেওয়া টিন আর পরিত্যক্ত পাটের লাকড়ি দিয়ে তৈরি ঘরে কোনরকম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। চোখে ঝাপসা দেখা রহিমা সকাল হলেই কেউ খাবার নিয়ে আসবে সেই আশায় পথ চেয়ে বসে থাকেন। এলাকাবাসীর কেউ খাবার দিলে দু’মুঠো খেতে পারেন তিনি। তবে অনেক সময় অনাহারেই থাকতে হয় বৃদ্ধা রহিমাকে।
সরকার ভূমিহীনদের বসবাসের জন্য ঘর বরাদ্দ দিলেও বৃদ্ধা রহিমার কপালে জোটেনি একটি ঘর। এলাকার সবার ঘরে বিদ্যুতের বাতি জ্বললেও রহিমার ঘরে জ্বলে পুরনো কেরোসিন তেলের কুপি। একটু বাতাস হলেই নিভে যায় কুপির সেই আলো৷ বয়সের ভারে একা চলতে পারেন না রহিমা। তাইতো একটি বাশের লাঠির উপর ভর করে কোনরকম চলাফেরা করছেন তিনি।
বৃদ্ধা রহিমা বেগম বলেন, মোর কাও নাই! বয়স হইছে চৌকে (চোখে) দেখিবার পাং না, মানুষ খাবার দেয় সেই খাবার খেয়া থাকোং,আবার কোনদিন না খেয়েও থাকোং। সবারে বাড়িত কারেন্ট আছে মোরে বাড়িত নাই। রাইতোত (রাতে) অনেক কষ্টে ব্যারাং।
তিনি আরো বলেন, সন্ধ্যা হলে চাটির (বেড়া) ফাঁক দিয়া বাতাস ঢুকে তখন খুব ঠান্ডা নাগে (লাগে)। ফির বাইসশ্যার (বর্ষাকালে) সময় ঘরত তিস্তার পানি ওঠে। সবাই বোলে সরকারি ঘর পায় মোরে কপালত ঘর নাই। সরকার যদি মোক একটা ঘরের ব্যবস্থা করি দেইল হয় তাইলে উপকার হইল হয়।
প্রতিবেশী আম্বিয়া খাতুন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসহায় রহিমার জন্য মানুষের বাড়ি বাড়ি চাল-ডাল সংগ্রহ করে বেড়াই ৷ পাড়া-প্রতিবেশীদের দেওয়া সেই চাল-ডাল রান্না করে তাকে খাওয়াই। এভাবে প্রতিদিন তার জন্য দু’মুঠো খাবারের সন্ধান যাই। আমাদের দিকে কেউ দেখে না৷
আরেক প্রতিবেশীর রেজাউল করিম বলেন, বহু বছর থেকে নদীর পাড়ে একাই বসবাস করছেন রহিমা। একটু বাতাস হলেই উড়ে যেতে চায় তার ঝুপড়ি ঘর। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেলেই পানির নিচে তলিয়ে যায় তার ঘর। প্রশাসন যদি রহিমা বেগমের পাশে দাঁড়ায় তাহলে শেষ জীবনটা হয়তো ভালোভাবে কাটাতে পারবে।
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দুলাল হোসেন বলেন, রহিমা বেগমের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। খোঁজখবর নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগীতা তাকে করা হবে৷ বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করবো৷



