অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা হয়েছে পিএসজিতে


ফরাসি ক্লাব পিএসজির সঙ্গে চলতি মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত লিওনেল মেসির চুক্তি। তারপরই তিনি হয়ে যাবেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির। দেশি ও ক্লাব সতীর্থ থাকায় পিএসজিতে আগ্রহ নিয়ে যোগ দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। আর নেইমার ও এমবাপ্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় পিএসজির সমর্থকরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু করে। কিন্তু ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা অর্জন ছাড়াই পিএসজি ছাড়ছেন মেসি।
লিওনেল মেসির প্যারিস ত্যাগ কি স্বাভাবিক ছিল? আপাত দৃষ্টিতে মনে হলেও তা কিন্তু নয়। আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের পিএসজি ছাড়ার পেছনে বেশকিছু বিষয় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। লা প্যারিসিয়ানদের প্রস্তাবিত নতুন চুক্তি পছন্দ না হওয়া। সৌদি আরব সফর করে ক্লাব কর্তৃক নিষিদ্ধ হওয়া। সবচেয়ে বড় গুরুতর ছিল ঘনঘন পিএসজি সমর্থকদের দুয়ো শোনা। বিষয়টি অপ্রত্যাশিত ছিল মেসির কাছে।
২০২১ সালে মেসি যখন প্যারিসে পাড়ি জমালেন, আর্জেন্টাইন সুপারস্টারকে বরণ করে পার্কে দেস প্রিন্সেস স্টেডিয়ামে বিছানো হয়েছিল লাল গালিচা, সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় নেমেছিল প্যারিসের রাস্তায়। মেসির ৩০ নম্বর পিএসজির জার্সি স্টক আউট হয়ে যায় ফ্রান্সের শপিং মলগুলোতে। এতো উষ্ণ অভ্যর্থনায় বরণ করে নেয়া তারকাকে ঠিক সেভাবে বিদায় জানায়নি পিএসজি সমর্থকরা। সৌদি আরব ভ্রমণ করায় মেসিকে তাড়ানোর আন্দোলনে নেমেছিল তারা। মেসির ছবি পুড়িয়ে, অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে সাক্ষাৎকার দিতেও দেখা যায় পিএসজি সমর্থকগোষ্ঠী আল্ট্রার সদস্যদের।
তাছাড়া পিএসজিকে চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতাতে না পারায় নিয়মিত দুয়ো উচ্চারণ তো ছিলই। বিইন স্পোর্টসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‘আমাকে খুব ভালোভাবেই স্বাগত জানানো হয়েছিল। পরে লোকে আমাকে ভিন্নভাবে দেখতে শুরু করলো। সমর্থকদের একটি বড় অংশের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধররো। অপ্রত্যাশিত ছিল সেগুলো। এসবের কাছাকাছি কিছুও আশা করিনি। তবে এমনই হয়েছে।’ শুধু মেসি নয়; এমবাপ্পে-নেইমারদেরও দুয়ো শুনতে হয়েছে। মেসি বলেন, ‘আমার আগে এমবাপ্পে এবং নেইমারকেও এসব সহ্য করতে হয়েছে এবং আমি বুঝতে পেরেছি, তাদের (ওই সমর্থকদের) ধরনই এরকম।’
মেসি বলেন, ‘(পিএসজিতে) আমাকে যারা সম্মান করেছেন, তাদেরকে মনে রাখব। এখানে আসার পর শুরুর দিন থেকেই আমি সবাইকে সম্মান করেছি। ব্যস, এটুকুই। ছোট্ট একটি কাহিনী এটি।’
দীর্ঘ সময় বার্সেলোনায় কাটিয়ে প্যারিসে গিয়ে সহজে মানিয়ে নিতে পারেননি মেসি। তিনি বেলন, ‘প্যারিসে আবার জীবন শুরু হয়েছিল মানিয়ে নেয়ার কঠিন লড়াই দিয়ে। যতটা ধারণা করেছিলাম, তার চেয়েও বেশি। যদিও ড্রেসিংরুমে পরিচিত মুখ ছিল। তবে মানিয়ে নেয়া খুবই কঠিন ছিল।’
মেসি বলেন, ‘হঠাৎ পরিবর্তন, অনেক দেরিতে ক্লাবে যোগ দেয়া, প্রাক মৌসুম প্রস্তুতি পর্বে না থাকা, নতুন ক্লাবে মানিয়ে নেয়া, সতীর্থ ও খেলার নতুন ধরন, নতুন শহর… আমার ও আমার পরিবারের জন্য এসব সহজ ছিল না।’



