আন্তর্জাতিক

রাশিয়া-যুক্তরাজ্যের বৈঠক বোবা-বধির ব্যক্তির কথোপকথন: ল্যাভরভ

চলমান ইউক্রেন উত্তেজনা নিয়ে বৈঠক করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্জেই ল্যাভরভ। বৈঠক শেষে লিজ ট্রাসের পাশে দাঁড়িয়ে ল্যাভরভ সাংবাদিকদের বলেন, আমি সত্যিই হতাশ। দ্বিপাক্ষিক আলোচনাকে বোবা এবং বধির ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথন। দুই পক্ষের বিস্তারিত আলোচনা মোটেও ফলপ্রসু হয়নি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন ট্রাস ও ল্যাভরভ। সেখানে ল্যাভরভ বলেন, তার দল যেসব ‘তথ্য’ তুলে ধরেছেন লিজ সেসব আমলে না নিয়ে নাকচ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে লিজ বলেন, ইউক্রেনকে হুমকি দেওয়া ছাড়া সীমান্তে এক লাখ সেনা মোতায়েন করার অন্য কোনো কারণ দেখতে পাচ্ছি না। আর রাশিয়া যদি কূটনৈতিক বিষয়ে গুরুত্ব দেয়, তাহলে তাদের সেই সৈন্যদের অপসারণ ও হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে লন্ডন মস্কোর কথা শুনছে না। স্পষ্টতই, দুই মন্ত্রী চোখে চোখ রাখেননি। দুই পক্ষের মধ্যে একটা বিশাল দূরত্ব রয়েছে, যা আজকের এই বৈঠকে পরিষ্কার হয়েছে।’

সীমান্তে এক লাখের বেশি সেনা মোতায়েন করার পরও ইউক্রেনে কোনো আগ্রাসন চালানোর পরিকল্পনার কথা বার বার অস্বীকার করে আসছে রাশিয়া। তবে প্রতিবেশি বেলারুশের সঙ্গে বড় আকারের সামরিক মহড়া শুরু করেছে মস্কো। রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের সঙ্গে ইউক্রেনের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।

বেলারুস রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ইউক্রেনের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ সামরিক মহড়া উপলক্ষে বেলারুসে যে সৈন্য সমাবেশ করেছে রাশিয়া তাকে স্নায়ুযুদ্ধের পর বৃহত্তম মহড়া বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি রাশিয়া তাদের ইউক্রেন-সংলগ্ন সীমান্তে এক লাখেরও বেশি সৈন্য সমাবেশ করার পর তারা যে কোনো সময় সেখানে অভিযান চালাতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো আশঙ্কা করছে। তবে রাশিয়া বার বার এরকম কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে।

বেলারুস ও রাশিয়ার এই যৌথ সামরিক মহড়াকে ফ্রান্স একটি ‘সহিংস ইঙ্গিত’ বলে আখ্যা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ মহড়াকে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে এমন একটি পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে বলেছেন, সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ আমাদের প্রতিবেশীদের পক্ষ থেকে একটা মানসিক চাপ। তবে রাশিয়া তা অস্বীকার করেছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বৃহস্পতিবার বলেছেন, গত কয়েক দশকের মধ্যে ইউরোপ এখন সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সংকটের সম্মুখীন। আশংকা করা হচ্ছে যে, রাশিয়া ইউক্রেনে অভিযান চালালে এই মহড়ার জন্য আসা রুশ সৈন্যরা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের অনেক কাছাকাছি থাকবে এবং তাদের জন্য শহরটির ওপর আক্রমণ চালানো সহজতর হবে।

মস্কো ও মিনস্ক কেউই তাদের ঠিক কত সৈন্য এ মহড়ায় যোগ দেবে তা প্রকাশ করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, প্রায় ৩০ হাজার রুশ সৈন্য এতে অংশ নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ