ছেলেদের ছাড়িয়ে ভেপিংয়ে এগিয়ে মেয়েরা, বাড়ছে উদ্বেগ


একসময় ধূমপান ও নিকোটিন ব্যবহারের প্রবণতা ছেলেদের মধ্যে বেশি দেখা যেত। তবে ই-সিগারেট বা ভেপিংয়ের ক্ষেত্রে বদলে যাচ্ছে সেই চিত্র। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সমবয়সী ছেলেদের তুলনায় কিশোরীদের মধ্যে নিয়মিত ভেপিংয়ের হার বেশি।
বিশেষ করে ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী মেয়েদের মধ্যে এই প্রবণতা বাড়ছে। কৌতূহলবশত এক-দুবার ভেপ ব্যবহার নয়, বরং নিয়মিত ব্যবহারকারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনার (এমইউএসসি) গবেষকেরা এ গবেষণা পরিচালনা করেন। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে জেএএমএ পেডিয়াট্রিকস সাময়িকীতে। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের তামাক ও নিকোটিন ব্যবহারের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এ ফলাফল পেয়েছেন।
কিশোরীদের মধ্যে বাড়ছে নিয়মিত ভেপিং
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের মধ্যে নিয়মিত ভেপিংয়ের হার বেশি দেখা যাচ্ছে। ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরীদের মধ্যে ২০২১ সালে নিয়মিত ভেপিংয়ের হার ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশে।
অন্যদিকে, একই বয়সী ছেলেদের মধ্যে ২০২৪ সালে নিয়মিত ভেপিংয়ের হার ছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ, ওই বছর ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী মেয়েদের মধ্যে নিয়মিত ভেপ ব্যবহারের হার ছেলেদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, এ গবেষণায় নিয়মিত ভেপ ব্যবহারকারীদের তথ্য বিবেচনা করা হয়েছে। যারা কৌতূহলবশত এক-দুবার ভেপ ব্যবহার করেছে, তাদের এই হিসাবের মধ্যে রাখা হয়নি। ফলে ফলাফলটি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে নিয়মিত ব্যবহারের প্রবণতা বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে।
এমইউএসসির টোব্যাকো ট্রিটমেন্ট প্রোগ্রামের পরিচালক বেঞ্জামিন টোলের মতে, তরুণদের মধ্যে ভেপিংয়ের সমস্যা এখনো রয়েছে। নতুন পরিসংখ্যান সেই উদ্বেগের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। গবেষণার প্রধান লেখক ব্র্যান্ডন স্যানফোর্ডও জানিয়েছেন, গবেষণাটি মূলত নিয়মিত ই-সিগারেট ব্যবহারকারী কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে।
এক দশকে কীভাবে বদলেছে ভেপিংয়ের চিত্র?
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নিকোটিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছেলেরা এগিয়ে ছিল। তবে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ভেপিংয়ের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। এ সময় ছেলে ও মেয়ে উভয়ের মধ্যেই ভেপ ব্যবহারের হার বাড়লেও দুই দলের ব্যবধান কমে আসে।
গবেষকদের মতে, বিভিন্ন স্বাদের ই-সিগারেটের জনপ্রিয়তা, সহজে ব্যবহার করার সুবিধা এবং আড়ালে ভেপ ব্যবহারের সুযোগ এ প্রবণতা বাড়াতে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। তবে এসব কারণের প্রভাব বুঝতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।
বয়সের দিক থেকেও ভেপিংয়ের প্রবণতায় পার্থক্য দেখা গেছে। ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে ভেপ ব্যবহারের হার ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের তুলনায় বেশি ছিল। অর্থাৎ, কিশোর বয়সের পরের পর্যায়ে নিয়মিত ভেপ ব্যবহারের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।
২০২১ সালে ভেপিংয়ের হার কমলেও পরবর্তী সময়ে তা আবার বাড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলেদের ছাড়িয়ে যায়। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সামগ্রিক হারে কিছুটা কমার প্রবণতা দেখা গেলেও গবেষকেরা একে সমস্যা দূর হয়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখতে নারাজ।
গবেষণার সহলেখক ও এমইউএসসির বায়োস্ট্যাটিসটিশিয়ান নাওমি ব্রাউনস্টেইনও এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তার মতে, ভেপিংয়ের হার কমে এলেও কম বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। মধ্যবিদ্যালয়পড়ুয়া অনেক মেয়েও এখনো ভেপ ব্যবহার করছে।
কেন বিষয়টি উদ্বেগের?
ভেপ বা ই-সিগারেটের মাধ্যমে নিকোটিন শরীরে প্রবেশ করতে পারে। নিকোটিন আসক্তি তৈরি করতে পারে এবং কিশোর বয়সে মস্তিষ্কের বিকাশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কম বয়সে নিয়মিত ভেপ ব্যবহারের প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
তবে গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের কিশোর-কিশোরীদের তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। তাই এ ফলাফল সরাসরি বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না। তা সত্ত্বেও, কিশোর বয়সে নিয়মিত নিকোটিন ব্যবহারের প্রবণতা বোঝা এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছে গবেষণাটি।
সূত্র: মেডিকেল এক্সপ্রেস, নিউজ এইটটিন



