শীর্ষ নিউজ

‘সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনায় বাংলাদেশের’

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশকে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছে সরকার। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সুবিধা এবং জনগণের জন্য সম্ভাব্য সুফল-ঝুঁকি পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় বিভিন্ন দেশ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জোটে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে। সার্ক, বিমসটেক, ইন্দো-প্যাসিফিক, কোয়াড ও ব্রিকসের মতো বিভিন্ন জোটের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কোনো জোটে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হবে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামনে রেখে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক নিজেদের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে তুলেছে। চুক্তিটির অন্যতম প্রধান নীতি হলো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা। অর্থাৎ, তিন সদস্যের কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, এই উদ্যোগকে শুধু সামরিক সহযোগিতার কাঠামো হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি সদস্যদেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থ ও জনগণের নিরাপত্তাও এর আলোচনায় রয়েছে। আগ্রহী অন্য দেশগুলোর জন্যও জোটটিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ এই চুক্তিতে যোগ দেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনা করছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি বিশ্লেষণ করা হবে। GeographicReference

সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধা ও কর্মসংস্থানের সুযোগকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন তিনি। তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ জানান, সম্প্রতি দেশটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত।

তিনি মনে করেন, চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এসব দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কা নগরীতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তিটির কাঠামোকে ‘ন্যাটো স্টাইলের’ বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। এর আওতায় কোনো একটি সদস্যদেশের ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার নীতি রাখা হয়েছে। এ উদ্যোগে মিশরও যুক্ত হতে পারে—এমন আলোচনা রয়েছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ