রাজধানী

গার্মেন্টস শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: ২০ পুলিশসহ অর্ধশতাধিক আহত, গাড়ি ভাংচুর

মো: শহিদুল ইসলাম সাগর : রপ্তানিমুখি পোশাক শ্রমিকদের নূন্যতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় পঞ্চম দিনের মতো মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করে গার্মেন্টস শ্রমিকরা। এসময় পুলিশ বাঁধা দিলে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে করে ১৮ থেকে ২০ জন পুলিশসহ অন্তত অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। এছাড়া পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশে চার নম্বর সেক্টর উত্তরার রাজলক্ষ্মী এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে এ হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা পূর্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদ রানা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর,
ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া, সংঘর্ষ ও আহত হওয়ার এসব তথ্য সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ, পথচারী, গার্মেন্টস শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে উত্তরার উত্তরখান ও দক্ষিণখান থানা এলাকার বিভিন্ন গার্মেন্টস শ্রমিকরা কসাইবাড়ি রেলগেট, জামতলা রেলগেট, আজমপুর রেলগেট, জসিমউদ্দিনের হলি ল্যাব মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন। পরবর্তীতে বেলা ১১টার দিকে রাজলক্ষ্মী সংলগ্ন উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কে একত্রিত হয়ে ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশ অবরোধের চেষ্টা চালায় শ্রমিকরা। এ সময় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পুলিশের বাঁধার মুখে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শ্রমিকরা লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হন এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। তখন পুলিশ বাধা দিলে পোশাক শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান নিক্ষেপ করে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সরিয়ে দেন।

এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকরা উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শিল্প পুলিশের (ইন্ডাস্ট্রিয়াল) পিকআপভ্যান ভাঙচুর করে। ভাংচুর করা গাড়িটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ সদর দপ্তরের বলে জানা গেছে।

এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ করে। পরে আন্দোলন কারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। সংঘর্ষে অনন্ত ৫০জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৮/২০ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে।

খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তারা আজমপুর রেলগেট, কসাইবাড়ি, আজমতলা ও ১০ নম্বর সেক্টরের রেললাইন দিয়ে উত্তরা থেকে দক্ষিণখানে বের করে দেয় পুলিশ। এ সময় রেললাইন থেকে পাথর ও আশপাশ থেকে লাঠিসোটা নিয়ে উল্টো পুলিশকে পাল্টা ধাওয়া করে গার্মেন্টস শ্রমিকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উত্তরা ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত টিআই (ট্রাফিক ইন্সপেক্টর) সাংবাদিকদের বলেন, উত্তরা পূর্ব থানার ৪ নম্বর সেক্টরের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ সদরদপ্তরে কর্মরত একজন পুলিশ সদস্য মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মাঝে পড়ে। পরে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কের এটিএম বুথের সামনে ওই পুলিশকে মারধর করে শ্রমিকরা। সেই সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করা হয়।

অপরদিকে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তরার আজমপুর, রাজলক্ষ্মী ও বিএনএস সেন্টার এলাকায় আগে থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের এপিসি (আমর্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার) ও জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়। এছাড়া শ্রমিক আন্দোলনকে ঘিরে পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন ছিল।

ডিএমপির উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ জানান, শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে আমরা তাদের বাধা দেই। পরে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট- পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে আমাদের অন্তত ১৮/২০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ওই সময় পুলিশ জলকামানের পানি, সাউন্ড গ্রেনেড মেরে তাদের ছত্রভঙ্গ করে।

পুলিশের দাবি, উত্তরখান ও দক্ষিণখানের বিভিন্ন গার্মেন্টস শ্রমিকরা প্রথমে কয়েকজন করে এসে মহাসড়কের আশেপাশে অবস্থান নেয়। পরে হঠাৎ করে রাজলক্ষ্মী এলাকায় জড়ো হয়ে মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা চালায় তারা। পুলিশের গাড়িতে হামলা ও পুলিশকে মারধরের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।

এই বিভাগের আরও সংবাদ