ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে হরমুজ পেরোনোর চেষ্টা, জাহাজে হামলা চালাল ইরান


বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীর দাবি, তাদের হামলার পর নৌযানটিতে আগুন ধরে যায়। সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসির হামলার শিকার ওই জাহাজটি ট্রান্সপন্ডার তথা শনাক্তকরণ সংকেত পাঠানোর ব্যবস্থা বন্ধ রেখে এবং সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে পৃথক চারটি ঘটনায় জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে তেহরান। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানের এই অবরোধের জবাবে দেশটির বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নিয়মিত পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার দাবিও করছে মার্কিন বাহিনী।
তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলোতে প্রায়ই হামলা চালাচ্ছে তেহরান। আইআরজিসির সংবাদমাধ্যম ‘সেপাহ নিউজে’ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বাহিনীটির নৌবাহিনী জানায়, ‘হরমুজ প্রণালিতে একটি সুপারট্যাংকারে আঘাত হানা হয়েছে এবং সেটিতে আগুন ধরে গেছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, সোমবার (১২ অক্টোবর) লক্ষ্যবস্তু হওয়া জাহাজটি নিজের অবস্থান শনাক্ত করার সংকেত পাঠানোর ব্যবস্থা বন্ধ করে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। এ ছাড়া আইআরজিসির নৌবাহিনীর সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করেছিল জাহাজটি।
এর আগে গত শনিবার আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার আলি ওজমায়ি সতর্ক করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় শনাক্ত হওয়া এড়াতে যেসব জাহাজ নিজেদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখবে, সেগুলোকে ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এসব জাহাজের বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও সেসময় হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও সোমবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে পৃথক চারটি ঘটনায় জাহাজে আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। সূত্র: আল-আরাবিয়া



