খুলনা

খুকৃবিতে স্মার্ট কৃষি নিয়ে প্রি-কনফারেন্স কর্মশালা

আহছানুল আমীন জর্জ, খুলনা ব্যুরো প্রধান :  খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুকৃবি) টেকসই কৃষির ভবিষ্যৎ নির্মাণে স্মার্ট প্রযুক্তির সম্ভাবনা, গবেষণা ও উদ্ভাবন নিয়ে ‘প্রি-কনফারেন্স অ্যাওয়ারনেস ওয়ার্কশপ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এ কর্মশালার প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্মার্ট এগ্রিকালচার ফর অ্যা সাসটেইনেবল ফিউচারঃ রিচার্স, ইনোভেশন এন্ড কোলাবরেশন’।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে এবং সেন্টার ফর স্মার্ট ভিলেজ এন্ড স্মার্ট সিটি স্টাডিজ -এর সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খান এবং অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ড. মোহাম্মদ নাজরুল ইসলাম এবং মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের উলস্টার ইউনিভার্সিটি -এর স্কুল অব কম্পিউটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমস -এর প্রফেসর ড. নাজমুল সিদ্দিক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষির গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন, খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষকের জীবন-জীবিকায় নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই কৃষি ব্যবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সমন্বিত প্রয়োগ প্রয়োজন।

তিনি জলবায়ু-সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং তা মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে স্মার্ট কৃষির বিকাশে দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

ড. নাজমুল সিদ্দিক বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুধু আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর গবেষণালব্ধ ফলাফলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকাশ ও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনের মাধ্যমে শতাধিক গবেষণাপত্র তৈরি ও দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশের ব্যবস্থা করা হবে। এসব গবেষণার ফলাফল কৃষির বাস্তব সমস্যার সমাধানে কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, সে বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, স্মার্ট কৃষির বিকাশে শুধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বিভিন্ন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও সহযোগিতার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষি, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে আন্তঃবিষয়ক গবেষণা জোরদার করা গেলে স্মার্ট কৃষির নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

কর্মশালায় স্মার্ট কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কৃষি রোবোটিকস, ডেটা বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয় কৃষি ব্যবস্থা, স্মার্ট সেচ, ফসলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি মডেলসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ সময় জানানো হয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ২০–২১ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হবে ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন এগ্রিকালচার ফর ডেভেলপমেন্ট (ICSASD)’। সম্মেলনকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মশালায় গবেষক ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণ এবং গবেষণাপত্র উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়।

সম্মেলনের ‘কল ফর পেপারস’-এ ফসলের রোগ ও পোকামাকড় পর্যবেক্ষণ, স্মার্ট পেস্ট ম্যানেজমেন্ট, ডিজিটাল ফার্মিং, এআই-এসিসটেড ক্রপ প্লানিং, কৃষি রোবোটিকস, কৃষি ডেটা বিশ্লেষণ, মেশিন ভিশন, স্মার্ট সেচ, জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি অভিযোজন, এআই-ড্রাইভেন পলিসি সিমুলেশন, মাটির স্বাস্থ্য মূল্যায়ন এবং ডেটা-নির্ভর স্মার্ট কৃষিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মৌলিক ও অপ্রকাশিত গবেষণাপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

আয়োজকেরা জানান, আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনের মাধ্যমে স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে দেশি-বিদেশি গবেষকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা এবং নতুন উদ্ভাবনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টেকসই, প্রযুক্তিনির্ভর ও উৎপাদনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গবেষণার ফলাফল মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে৷

এই বিভাগের আরও সংবাদ