খুলনা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল হতে হবে : কেসিসি প্রশাসক

আহছানুল আমীন জর্জ, খুলনা ব্যুরো প্রধান : ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নগরীতে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, সড়ক সংলগ্ন বড় বড় ড্রেনগুলোতে মশার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। এখন বাড়ি, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে পারলে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ অনেকটাই কমে আসবে।

২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকালে খুলনা নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ে স্বল্প আয়ের পরিবারের সদস্যদের মাঝে মশারি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৩০০টি পরিবারের মাঝে মশারি বিতরণ করা হয়।

কেসিসি প্রশাসক বলেন, বাড়ির ভেতরে বদ্ধ পানি, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ার, প্লাস্টিকের ভাঙা পাত্রসহ বিভিন্ন স্থানে পানি জমে আছে কি না, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। একই সঙ্গে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু কেসিসির পক্ষে নগরীর প্রতিটি বাড়ির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। তাই বাড়ি, অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তিন মাসের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতিও তিনি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জ্বর অনুভূত হলে অবহেলা না করে মেডিকেল ক্যাম্পে গিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুরভী বিশ্বাস, সাবেক কাউন্সিলর মো. শমসের আলী মিন্টু ও মাজেদা খাতুন, সমাজসেবক মহিবুল্লাহ শামীম ও মেশকাত আহমেদ, শীতলা বাড়ি মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুজিত সাহা ও সেক্রেটারি বিজয় ঘোষ, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমিত কান্তি ঘোষসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বুধবার দুপুরে নগরীর দৌলতপুরস্থ শহীদ জিয়া কলেজ অডিটরিয়ামেও স্বল্প আয়ের পরিবারের সদস্যদের মাঝে মশারি বিতরণ করা হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের সুরক্ষায় শিশু শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক কল্যাণমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘হাসিমুখ ফাউন্ডেশন’ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেসিসি প্রশাসক বলেন, নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মশক নিয়ন্ত্রণ ও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে কেসিসির উদ্যোগে নগরীর আটটি রেড জোনে আটটি বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ডেঙ্গু ইউনিট চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উন্মুক্ত জায়গায় বৃহৎ পরিসরে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন এবং ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা দল গঠনের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শহরের প্রতিটি বাড়ি পরিষ্কার করার সামর্থ্য কেসিসির নেই। তাই বাড়ি, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ নিজ নিজ স্থাপনা নিজেদের উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

হাসিমুখ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সৈয়দ নওসুদুজ্জামান পল্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শহীদ জিয়া মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. তারিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে কেসিসির সাবেক কাউন্সিলর কবির হোসেন কবু মোল্লা, সমাজসেবক প্রকৌশলী শাহীর হোসেন জাম্বু, সৈয়দ মাইনুল ইসলাম, সৈয়দ এনামুল হাসান ডায়মন্ড, শেখ মোহাম্মদ কবির হোসেন টিটো, দারুল হুদা জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা আবুল কাশেম, ২ নম্বর ওয়ার্ড নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক চমন আক্তার, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষক এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্চিতা দে। অনুষ্ঠানে ১০০টি স্বল্প আয়ের পরিবারের সদস্যদের মাঝে মশারি বিতরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ তাদের খুলনা শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় নগরীতে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তা, মা ও শিশুদের মাঝে পুষ্টিকর খাবার বিতরণ, প্রতিবন্ধী শিশুদের সহায়তাসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে মশারি বিতরণ কার্যক্রমও পরিচালনা করছে সংস্থাটি। এর আগে মঙ্গলবার নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের খ্রিস্টান পল্লী ও ঋষি পল্লীতে মশারি বিতরণ করা হয়।

এই বিভাগের আরও সংবাদ