জাতীয়

আদ-দ্বীন হাসপাতালে এসির গ্যাস লিকেজ থেকে ৬ শিশুর মৃত্যু

রাজধানীর আদ্-দীন হাসপাতালে এসির গ্যাস লিকেজে এক ওয়ার্ডে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ডিএমপির রমনা বিভাগের ডিসি শেখ জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেছে পুলিশ সদস্যরা। তবে স্বজনদের কেউ কেউ দাবি করছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে শিশুদের মৃত্যু কী কারণে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মারা যাওয়া শিশুদের বয়স এক থেকে দুই দিনের মধ্যে। তারা সবাই পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। ওই ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও ছয়জন সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু ছিলেন।

ঘটনার পর হাসপাতালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। এক শিশুর দাদী কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, চিকিৎসকেরা যদি পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারেন, তাহলে তাদের অন্য হাসপাতালে যেতে বলা উচিত ছিল। তিনি বলেন, তার নাতনিকে আইসিইউতে নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয় এবং ওষুধ কেনার জন্য কয়েক হাজার টাকা খরচও করানো হয়। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর গিয়ে জানতে পারেন, শিশুটি আর বেঁচে নেই।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাতে ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স ছিলেন না। বাচ্চারা সারারাত কান্না করছিল এবং একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ছিল।

আরেক মা, যিনি নিজের সন্তান হারিয়েছেন তিনি বলেন, রাতে ওয়ার্ডের প্রায় সব শিশুই কান্না ও বমি করছিল। তারা কেউ বুঝতে পারেননি কী ঘটছে। সকালে শিশুর অবস্থা খারাপ হলে তাকে বাইরে নেয়া হয়। পরে এনআইসিইউতে নেয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রথমে আশ্বস্ত করলেও কিছু সময়ের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যুর খবর দেয়া হয়।

তিনি জানান, ওয়ার্ডে প্রায় ১২ থেকে ১৩টি শিশু ছিল এবং তার ধারণা, অধিকাংশ শিশুই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।

হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) তারিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বলে তিনি জেনেছেন। হাসপাতালে গিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় একটি ব্রিফ করেছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও ছয়জন শিশু ছিল। প্রথমে দুটি শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের এনআইসিইউতে নেয়া হয়। পরে আবার ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সকাল ছয়টার দিকে শিশুদের আবারও অসুস্থতা দেখা দিলে তাদের এনআইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে ভেন্টিলেশনে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শিশুদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এই বিভাগের আরও সংবাদ