জাতীয়

বান্দরবানে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবসে পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বান্দরবানের রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, এমপি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা দেশব্যাপী ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড বিতরণ করেছি। সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো সবার আগে স্বাবলম্বী পরিবার এবং সবার আগে বাংলাদেশ গড়ে তোলা।” নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক দুর্দশা লাঘবে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আজ দুপুরে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা পরিষদ ও সমবায় অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস ২০২৬-এর আলোচনা সভা, চেক বিতরণ ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য স্মরণ করে বলেন, ১৯৬৭ সালে তাঁর স্বর্গীয় পিতা অংশুই প্রু বান্দরবানে প্রথম সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন, যার সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ হাজার। বর্তমানে সেই সমবায় ধাপে ধাপে বেড়ে ৫০ হাজারে উন্নীত হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক বিপ্লবের রূপরেখা তুলে ধরে মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, “আমরা স্থায়ী অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে নিত্যনতুন আয়ের উৎস তৈরিতে কাজ করছি। পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৬টি উপজেলায় মাটির গুণাগুণ গবেষণা করে কফি, কাজুবাদাম, রামবুটান, মাশরুম, চুইঝাল ও লটকন চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা গেছে। বিশেষ করে রুমা ও থানচিকে কফি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী সাচিং প্রু জানান, চাষিদের পানির সমস্যা মেটাতে রুমায় ৫ হাজার লিটার পানি সরবরাহের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া লাভজনক প্রকল্প হিসেবে বিদেশে রপ্তানিযোগ্য লাল মাশরুম, দেশি মুরগি, গাড়ল এবং মসলা জাতীয় ফসল (আদা, হলুদ, জিরা) চাষে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরির পেছনে না ছুটে দক্ষ উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি সমবায় বিভাগকে সার্বজনীন প্রকল্প গ্রহণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির নির্দেশ দেন।

তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে “করবো সমবায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানকে সামনে রেখে বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির বান্দরবান গড়ার ডাক দেন মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি।

অনুষ্ঠানে জেলার চারটি সমবায় সমিতিকে মোট ৯ লাখ টাকার ঘূর্ণায়মান ঋণের চেক হস্তান্তর করা হয় এবং বিশেষ অবদানের জন্য পাঁচটি সমবায় সংস্থাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লুসাইমং, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা সমবায় কর্মকর্তা ফাতেমা বেগম এবং বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি নাছিরুল আলমসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও সমবায় সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তীতে বিকেলে মন্ত্রী শৈলশোভা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের মৃত্যু ফান্ড থেকে প্রয়াত ১৯ জন শ্রমিকের পরিবারের মাঝে নগদ অনুদান বিতরণ করেন।

এই বিভাগের আরও সংবাদ