সোমবার পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির প্রস্তাব দেবে শ্রমিকপক্ষ


তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে আগামীকাল সোমবার (৯ নভেম্বর) মজুরি বোর্ডের সভায় প্রস্তাব উপস্থাপন করবে শ্রমিকপক্ষ। তবে এখনো নিজেদের প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে পারেনি মালিকপক্ষ। এ বিষয়ে তারা কাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মজুরি বোর্ডের সর্বশেষ সভায় নতুন মজুরি কাঠামোর প্রস্তাব জমা দিতে উভয় পক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছিল। ওই সভায় শ্রমিক ও মালিকপক্ষ পরবর্তী সভায় নিজ নিজ প্রস্তাব উপস্থাপনে সম্মত হয়।
সেই অনুযায়ী, সোমবারের সভায় শ্রমিকপক্ষ তাদের প্রস্তাব তুলে ধরবে। অন্যদিকে, মালিকপক্ষের প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় সভায় তাদের অবস্থান কী হয়, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
মজুরি বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার বলেন, আগামীকালের সভায় উপস্থাপনের জন্য ন্যূনতম মজুরির প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে। সেগুলোর ভিত্তিতে একটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব তৈরি করে মজুরি বোর্ডে উপস্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা, যা শ্রমিকদের বর্তমান দাবি। তবে এর চেয়েও বেশি হতে পারে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সুপারিশ, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং পোশাকশিল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে মজুরির চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
এ বিষয়ে মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন বলেন, বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে রোববার ৪০টি কারখানা বন্ধ থাকায় চলমান অস্থিরতা নিয়ে তারা এখনো উদ্বিগ্ন। তবে তারা সভায় রয়েছেন এবং মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় সভার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আলোচনার পর প্রস্তাব জমা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সোমবার প্রস্তাব জমা দেওয়া হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।
পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ৪ নভেম্বর। ওই সভায় উভয় পক্ষকে মজুরি প্রস্তাব তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী সভায় প্রস্তাব উপস্থাপনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়।
এর আগে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার শ্রমিক সংগঠন ও ফেডারেশনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত মজুরি প্রস্তাব তৈরির আহ্বান জানিয়েছিলেন।
বর্তমানে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ঘোষিত সর্বশেষ মজুরি কাঠামোয় এ মজুরি নির্ধারণ করা হয়। তবে শ্রমিকপক্ষের দাবি, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করতে হবে।
ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাইদ আজাদ সুবহানি। বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নিরপেক্ষ সদস্যও রয়েছেন।
এর আগে নতুন মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার কথা জানা যায়। সে অনুযায়ী, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে জানুয়ারি মাসে শ্রমিকেরা নতুন হারে বেতন পাবেন।



