মাগুরায় বিয়ে নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি; তদন্তের দাবি


মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরা সদর উপজেলার শত্রুজিৎপুরে হাচিবুল ইসলাম নামে এক যুবক হিন্দু সম্প্রদায়ের এক মেয়েকে বিয়ে করেছে বলে। মেয়েটি নোটারি পাবলিকের মধ্যমে মুসলিম হয়েছে বলে জানা গেছে। এঘটনায় এলাকায় আলোচনা ও সৃষ্টি হয়েছে। হাচিবুল ইসলাম শত্রুজিৎপুর মোল্যা পাড়ার হাবিবুর রহমানের ছেলে।
এবিষয়ে হাচিবুল ইসলামের পিতা হাবিবুর রহমান বলেন, ছেলে এবং মেয়ে দুজনই প্রাপ্ত বয়স্ক। ঘটনাটি আমি জানতাম না। পরে জানাজানি হলে আমিও জানতে পেরেছি যে তারা দুজন বিয়ে করেছে। আমার ছেলে কলেজে পড়াশোনা করতো। শুনেছি দুই মাস আগে তারা বিয়ে করেছে। আমার ছেলে বাড়িতে থাকে না এখন। ছেলে মেয়ের বয়স হয়েছে তাই তারা যদি বিয়ে করে থাকে তাহলে তো দোষের কিছু নেই। আর আমি তো ছেলেকে এই কাজ করতে শিখিয়ে দেইনি। হিন্দু মেয়েটি আইনগতভাবে মুসলিম হয়েছে এফিডেভিটের মাধ্যমে। পরে তারা দুজন বিয়ে করেছে। এখন ছেলে মেয়েরা যদি বড় হয়ে যায় তাহলে তো বাবা মায়ের কথা শুনতে চাই না। তাই আমাদেরকে না জানিয়ে আমার ছেলে বিয়ে করে ফেলেছে। এবিষয়ে এলাকার স্থানীয় লোকেরা আমাকে বলেছে। আমি এই কথাগুলোই তাদেরকে বলেছি। আমি ব্যবসায়ী মানুষ, তাই ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত থাকি। এসব বিষয়ে আগের থেকে কিছুই জানতাম না। তবে বিয়ে বা মুসলিম হবার বিষয়ে হাবিবুর রহমান বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে পাওয়া কিছু কাগজপত্র ও ভিডিও আছে বলে জানিয়েছেন।
হাবিবুর রহমান আরও বলেন, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যদি তারা তো অন্যায় কিছু করেনি। বিয়ে একটা স্বীকৃতি বিষয়। তারপরও যদি কোনো ভুলত্রুটি হয়, তাহলে তার সমাধানও আছে। ছেলে ও মেয়ের বয়স হয়েছে তারা বিয়েও করেছে। এর বাইরে আমার আর কিছু বলার নেই।
এদিকে ছেলে মেয়ে উভয়ের বিয়ে সংক্রান্ত একটি ভিডিও বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে ছড়িয়েছে। হঠাৎ এমন ঘটনা এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
এঘটনায় মেয়ের পরিবার তাদের মেয়েকে ফেরত নেওয়ার জন্য এলাকার লোকজনকে বলেছেন। একইসঙ্গে মেয়ে হাজির করে সুস্ঠ সমাধানও চেয়েছেন তারা।
এবিষয়ে স্থানীয়রা বলছেন, ছেলে ও মেয়ে পালিয়ে আছে। তাদেরকে এলাকায় আসতে বলেছি। দুপক্ষের কাছে শুনে হয়তো একটা ভালো সমাধান হতে পারে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসী বলছেন, এধরনের ঘটনা খতিয়ে দেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্তপূর্বক সমাধান করা উচিত।
এবিষয়ে জানার চেষ্টা করলে ছেলে এবং ওই মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ধারনা করা হচ্ছে তারা বিয়ে করে দুজনই একসঙ্গে গা ঢাকা দিয়ে আছে অন্যত্র।
এঘটনায় প্রশাসন বলছে, বিষয়টি তারা শুনেছেন। তবে অভিযোগ আসলে অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান।



