ক্যাম্পাস

নিজ প্রার্থীকে জেতাতে ১৪ ভোট ‘বাড়ানোর’ অভিযোগ শিবির কর্মীর বিরুদ্ধে

জবি প্রতিবেদক, রাফীদ আদ দ্বীন রাঈম: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) খুলনা জেলা ছাত্রকল্যাণ সংসদের ২০২৬ সালের নির্বাচন নিয়ে ভোট কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ সম্পাদক পদে মো. সামাউন হোসেন সৈকত প্রকৃতপক্ষে ৩১ ভোট পেলেও তাকে ৪৫ ভোট দেখিয়ে বিজয়ী ঘোষণা করার অভিযোগ উঠেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, নিজের সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করতেই ভোটের হিসাবে এ পরিবর্তন করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা জেলা ছাত্রকল্যাণ সংসদের এ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৯৩ জন। ভোট গ্রহণ করা হয় গুগল ফর্মের মাধ্যমে। ভোট দেওয়ার পর কয়েকজন ভোটার ভোট জমা হয়েছে কি না নিশ্চিত না হয়ে অসতর্কতাবশত একাধিকবার ভোট দেন। এতে গুগল ফর্মে মোট ৯৫টি ভোট জমা পড়ে।

পরে একাধিকবার ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের সব ভোট বাতিল করা হয়। এতে ১৬টি ভোট বাতিলের পর বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৯টি।

বাতিল ভোট বাদ দিয়ে পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে রাশেদুজ্জামান ৫৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী শিমুল মোড়ল পান ২৬ ভোট। ফলে ২৭ ভোটের ব্যবধানে জয় পান রাশেদুজ্জামান।

তবে সাধারণ সম্পাদক পদে ফলাফলে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। পুনর্গণনা করে পাওয়া ফলাফলে অর্নব সরকার ৪৫ ভোট, মো. সামাউন হোসেন সৈকত ৩১ ভোট এবং হাসিব সরদার ৩ ভোট পান। এতে ১৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন অর্নব সরকার।

অন্যদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইব্রাহিম খলিলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত প্রথম ফলাফলে অর্নব সরকারকে ৪৩ ভোট, সামাউন হোসেন সৈকতকে ৪৫ ভোট এবং হাসিব সরদারকে ২ ভোট দেখানো হয়। এ ফলাফলে মাত্র দুই ভোটের ব্যবধানে সামাউন হোসেন সৈকতকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

দুই ফলাফল তুলনা করলে দেখা যায়, পুনর্গণনার ফলাফলে সামাউন হোসেন সৈকতের ভোট ৩১ হলেও প্রথম প্রকাশিত ফলাফলে তা দেখানো হয়েছে ৪৫। অর্থাৎ দুই ফলাফলের মধ্যে তার ভোটের পার্থক্য ১৪টি। অন্যদিকে অর্নব সরকারের ভোট ৪৫ থেকে কমিয়ে ৪৩ দেখানো হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সামাউন হোসেন সৈকত প্রকৃতপক্ষে যত ভোট পেয়েছেন, তার চেয়ে ১৪টি বেশি ভোট দেখানো হয়েছে। আর এই ভোটের পার্থক্যের কারণেই সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে যায়।

সভাপতি পদেও দুই ফলাফলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেছে। পুনর্গণনার ফলাফলে রাশেদুজ্জামান ৫৩ এবং শিমুল মোড়ল ২৬ ভোট পেলেও ইব্রাহিম খলিলের প্রকাশিত প্রথম ফলাফলে তাদের ভোট দেখানো হয় যথাক্রমে ৪৮ ও ৪১।

অর্থাৎ একই নির্বাচনের দুই ফলাফলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—দুই পদেই প্রার্থীদের ভোটের হিসাবে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে।

এদিকে ইব্রাহিম খলিলের প্রকাশিত ফলে মোট ভোট দেখানো হয়েছে ৯৬টি। এর মধ্যে বৈধ ভোট ৮৯ এবং বাতিল ভোট ৭। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে তিন প্রার্থীর ভোট ৪৩, ৪৫ ও ২—যোগ করলে মোট দাঁড়ায় ৯০। ফলে প্রকাশিত ফলাফলের হিসাবেও গাণিতিক অসঙ্গতি রয়েছে।

তবে নির্বাচন নিয়ে মূল প্রশ্নটি অতিরিক্ত ভোট পড়া নিয়ে নয়। কারণ একাধিকবার ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের সবগুলো ভোট বাতিল করা হয়েছে। মূল প্রশ্ন হলো, বাতিল ভোট বাদ দেওয়ার পর পাওয়া ফলাফলের সঙ্গে প্রকাশিত ফলাফলের এত বড় পার্থক্য কীভাবে হলো।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইব্রাহিম খলিলের সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন মো. সামাউন হোসেন সৈকত। তাকে বিজয়ী করতেই ভোটের হিসাব পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

এই বিভাগের আরও সংবাদ