যে জীবন হাসিনা আমাদের দিয়েছিলেন, বেঁচে থেকেও মরে যাওয়ার মতো: জোনায়েদ সাকি


আজ শুক্রবার গণসংহতি আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিকাল ৩:৩০ এ জুলাই গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গণসমাবেশে সভাপত্বি করেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জননেতা জোনায়েদ সাকি।
জুলাই গণসমাবেশ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ জুলফিকার আহমেদ শাকিলের মা ফাতেমা বেগম। শহীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করে শুরু হয় সভার কাজ।

বক্তব্য রাখেন আহত জুলাই যোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ইমন, জামাল হোসেন, লিটন হোসেন, শহীদ ওসমান পাটোয়ারির পিতা আব্দুর রহমান প্রমুখ।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, হাসান মারুফ রুমী, মনির উদ্দীন পাপ্পু কেন্দ্রীয় সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এবং বাংলাদেশ বহুমুখী শ্রমজীবী ও হকার সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভুইয়া, দীপক রায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তরিকুর সুজন, কেন্দ্রীয় সদস্য জুলাই আহত যোদ্ধা মিজানুর রহমান মোল্লা, কেন্দ্রীয় সদস্য ও ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সহসাধারণ সমপাদক আলিফ দেওয়ান, কেন্দ্রীয় সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জণ দাস।
সভাপতির বক্তব্যে জোনায়েদ সাকি বলেন, যে জীবন শেখ হাসিনা আমাদের দিয়েছিলেন, বেঁচে থেকেও মরে যাওয়ার মতো, সে জীবন আবু সাইদ ও শহীদরা মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন না। তাই বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন পুলিশের গুলির সামনে।
তিনি বলেন, ৭১ এর শহীদদের রক্তের ঋণ বাংলাদেশ শোধ করতে পারেনি গত ৫৪ বছরে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি ৭১ এবং ২৪ শহীদদের ঋণ পরিশোধের সংগ্রাম আমরা করবো। মানুষের ঐক্য ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে।

মানুষের ঐক্যই শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে পারবো। ১ বছর পরেও কেন শহীদ ও আহতদের আর্তচিৎকার শুনতে হবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা লুটপাটের বন্দোবস্ত করতে যেয়ে পুরো রাষ্ট্রকেই দুর্নীতিগ্রস্ত করে ফেলেছিলো। এখন নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করতে হলে এই দুর্নীতির পথ বন্ধ করতে হবে।
নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, গণসংহতি আন্দোলন জন্ম থেকেই সংবিধান সংস্কার, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত কিংবা বাংলাদেশ পন্থী রাজনীতির কথা বরে আসছে যা গণঅভ্যূত্থানের ভেতর দিয়ে নতুন করে সামনে এসেছে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের স্বার্থের বাইরে আমাদের আর কোন স্বার্থ নাই। তিনি আরো বলেন জুলায়ের আঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করার জন্য মমতাময়ী মায়ের মতো করে যত্ন নিয়ে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে।
ফিরোজ আহমেদ বলেন, ১২ বছর আগে রানা প্লাজা ধ্বসের পরে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি ১১৭৫ জান নিহত ও নিখোাঁজ শ্রমিকদের ছবিসহ তালিকা তৈরি করেছিলেন। সাধ্যমতো অর্থ সাহায্য করেছেন এবং অনুদান পাইয়ে দিতে সহায়তা করেছেন। কিন্তু জুলাই অভ্যূত্থানের ১ বছর পরেও রাষ্ট্র এখনো এ কাজ সম্পন্ন করতে পারেন নাই। তিনি বলেন, সকল সংস্কারের জন্য এতো অপেক্ষার দরকার নাই। পুলিশ সংস্কার বা আমলাতন্ত্রের সংস্কার করার জন্য সরকারের নির্বাহী আদেশ যথেষ্ট ছিলো।
তাসলিমা আখতার বলেন, জুলাই অভ্যূত্থানের এক বছর পরে এসে দেখতে হচ্ছে অভ্যূত্থানের কৃতিত্বের দাবিদার কে হবেন তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন এ অর্জন আমাদের সামষ্টিক।
আরো বক্তব্য রাখেন, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ড, কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল জেলা ছাত্র ফেডারেশন সভাপতি ফাতেমা রহমান বিথী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জুলাই আন্দোলনে কারা নির্যাতিত নেতা খুলনার যোদ্ধা শেখ আল আমিন হোসেন, জুলাই আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্যতম প্রতিরোধ যোদ্ধা এবং ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ফারহানা মানিক মুনা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক আরমানুল হক।
ছাত্র নেতৃবৃন্দ বলেন জুলাই অভ্যূত্থানের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য তরুণদেরকে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। বিপ্লব সম্পন্ন করতে হবে, বৈষম্বের অবসান করতে হবে।
নারী সংহতির সভাপ্রধান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্যামলী শীল বলেন, এ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান শক্তি ছিলো নারীরা, মায়েরা। মায়েরা পিঠ চাপড়ে আন্দোলনে ঠেলে দিয়েছে। এটাই ছিলো আন্দোলনের অন্তর্গত শক্তি। তিনি বলেন, সঠিক রাজনীতি নির্ধারণ করতে হবে।
প্রবাসী সংহতির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন নৃবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক সায়মা খাতুন। তিনি বলেন, এক বিরাট ত্যাগ ও বলিদানে ভেতর দিয়ে ফ্যাসিবাদ মুক্ত হওয়ার যে অর্জন তা অনেকখানি ম্লান হয়ে যায় যখন দঙ্গলের রাজত্ব সৃষ্টি হয়, মাজার ভাঙা হয়, নারীদের ওপর হামলা হয়। তিনি আরো বলেন ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে প্রবাসীদের অসাধারন সমর্থন ও ভূমিকা ছিলো।
যুব ফেডারেশনের সম্পাদক এবং ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন বলেন, তরুণ যুবাদের প্রাণশক্তি, দক্ষতা ও প্রতিশ্রুতিকে কাজে লাগাতে হবে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নির্বামণ করতে।


