দেশজুড়ে

জরাজীর্ণ সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল, যেকোনো সময় ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা

মোঃ সুমন উদ্দিন, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরঠিকা-চরবসু সড়কের ভুলুয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির পাটাতন ও রেলিং ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙাচোরা ও নড়েবড়ে এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ চার উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ। যে কোনো মুহূর্তে সেতুটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা মাথায় নিয়েই তারা চলতে বাধ্য হচ্ছেন।

উপজেলা চরঠিকা-চরবসু সড়কের ভুলুয়া নদীর ওপর প্রায় দুই যুগ আগে এ সেতুটি নির্মিত হয়। ৪০ মিটার দৈর্ঘ্য ও আড়াই মিটার প্রস্থের এ সেতু দিয়ে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতিসহ পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী জেলার সদর ও সুবর্ণচর উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করছেন। তাছাড়া স্থানীয় শান্তিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফজুমিয়ারহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফজুমিয়ারহাট মঈনুল ইসলাম মাদরাসা, চরঠিকা মোহাম্মদীয়া মাদরাসা, চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মাতাব্বরনগর দারুচ্ছুন্না আলিম মাদ্রাসা, চরজাঙ্গালীয়া এস সি উচ্চ বিদ্যালয়, তোয়াহা-ই-আইয়ুব মহিলা কলেজ ও হাজিরহাট উপকূল সরকারি কলেজসহ ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতু ব্যবহার করতে হয়। যাত্রীবাহী পরিবহন ও কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ছোট-বড় যানবাহনও যাতায়াত করে এ সেতু দিয়ে। প্রায় ছয় বছর আগে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটিতে ভাঙন দেখা দেয়। সেতুর পাটাতন ও রেলিংয়ের কংক্রিট খসে রড বেরিয়ে যায়। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ অংশের রেলিং ভেঙে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এবং পাটাতনের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক জসিম বেপারী, আবদুস সহিদ ও ইউছুফ মাঝি জানান, উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে তুলতে তারা এ সেতুটি ব্যবহার করছেন। এ জন্য সব সময় আতঙ্কে থাকেন তারা। যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে গিয়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগেই তারা এই সেতুর সংস্কার চান।

কমলনগর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ওই সেতুর স্থলে ৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে পাঁচ মিটার প্রস্থের একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে টেন্ডার হয়েছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, এই ব্রিজটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যে টেন্ডার হয়েছে। কাজটি দ্রুত শুরু করার জন্য আমি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলছি।

এই বিভাগের আরও সংবাদ